এনামুল হক, খুলনা অফিস
বন্ধের পর দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি জুট মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার টাকা পরিশোধ করা হয়নি। চাকরি হারিয়ে বর্তমানে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ক্রমাগত লোকসানের কারণে গত ২৫ জুন খুলনা অঞ্চলের নয়টিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর ২ জুলাই পাটকল বন্ধসহ গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় শ্রমিকদের অবসায়নের প্রজ্ঞাপন মিলে মিলে নোটিস বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সংস্কার করে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চালু করা হবে। তবে, বন্ধ ঘোষিত মিল চালুর ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানিয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হওয়া নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল হচ্ছে, ক্রিস্টে জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল, আলিম জুট মিল, জেজেআই জুট মিল ও কার্পেটিং জুট মিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেএমসির একজন কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে উত্পাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সদ্য অবসরে যাওয়া খুলনা অঞ্চলের সাতটি জুট মিলের ৮ হাজার ১০০ শ্রমিক ও আগের অবসরে যাওয়া আরো প্রায় ১ হাজার শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের জন্য সরকারের প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লাগতে পারে। তবে, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলে দৈনিকভিত্তিতে (অস্থায়ী শ্রমিক) কাজ করা কোনো শ্রমিক সরকারি কোনো সুবিধা পাবে না।
বিজেএমসির সূত্রমতে, ২০১৩ ও ১৪ সাল থেকে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল থেকে প্রায় ১ হাজার শ্রমিক অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘ ৬-৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তারা টাকা পাননি। অনেক চেষ্টা তদ্বির করে কেউ কেউ প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পেলেও মজুরি কমিশন ও গ্র্যাচুইটির টাকা এখনো পায়নি।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের বেসিং বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক মনসুর আলী বলেন, মিল বন্ধের সময় দুই মাসের (জুন-জুলাই) বেসিকের ২৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বেতন ও গ্র্যাচুইটিসহ অন্যান্য কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফরিদ হতাশার সুরে বলেন, আমাদের ইস্তফার কোনো কার্যকারিতা পাচ্ছি না। বকেয়া টাকারও কোনো খবর নেই। ক্রিসেন্ট জুট মিলের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. কালাম মল্লিক বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকদের বকেয়া ছয়টি বিলের ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বন্ধ ঘোষিত মিল চালুর ব্যাপারেও আমাদের কোনো কিছু জানা নেই।
বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়ক (লিয়াজোঁ অফিসার) মো. গোলাম রব্বানী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ৮ হাজার ১০০ শ্রমিকের দুই মাসের বেসিকের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে, বেতনসহ অন্যান্য বকেয়া এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।