উপকথা

কর্ণাটকের লোককাহিনি বাঘের চালাকি

 

ভারতের কর্ণাটক রাজ্য। রাজ্যের শেষ কোণে এক গহিন বন। বনের শেষে মস্ত এক পাহাড়। পাহাড় জুড়ে কেবল পানির ঝরনা আর ঝরনা। একদিন এক ভেড়ার পানির খুব তেষ্টা পায়। তেষ্টা মেটাতে ভেড়া পাহাড়ের নিচে এক ঝরনায় পানি খাচ্ছিল। আচমকা ভেড়া পাহাড়ের ওপর এক ঝরনায় দেখে বড় এক বাঘ। অমনি বাঘ প্রচণ্ড গর্জন করে ভেড়াকে বলে, ‘আমার ঝরনার পানি ঘোলাটে কেন?’

ভেড়ার উত্তর, ‘মহারাজ, ঝরনার পানি কীভাবে ঘোলা করলাম? আমি তো নিচের ঝরনায়। আর বনের রাজা তো ওপরে।’

‘নিশ্চয়ই কাল এমনটা করেছ,’ বাঘ বলে।

‘কাল তো বনে যাইনি!’ ভেড়ার উত্তর।

‘তবে এটা মা-ভেড়ার কাজ,’ বাঘ বলে।

‘মা-ভেড়া তো অনেক আগেই মারা গেছে,’ ভেড়া নরম গলায় বলে।

‘তাহলে নিশ্চয়ই এটা বাবা-ভেড়ার কীর্তি,’ বাঘের গর্জন।

‘বাবা-ভেড়া! জন্মের পর আর দেখিনি।’ পালাতে-পালাতে নিরুপায় ভেড়া বলে।

বাঘ বলে, ‘তাতে কী? এটা নিশ্চয়ই দাদা-ভেড়া কিংবা বড় দাদা-ভেড়ার কাজ। তোমাকে খাওয়া ছাড়া আর কীই বা উপায়।’

বাঘ ভেড়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিমেষেই ভেড়াটাকে কয়েক টুকরো করে। আর মহা আনন্দে ভেড়ার নরম মাংস চিবোতে থাকে।

রূপান্তর :কুতুব আজাদ

 

অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য