স্থগিত হচ্ছে এইচপির সফর!
স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ জাতীয় দল ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের শ্রীলঙ্কা সফরকে ঘিরে প্রবাহিত হচ্ছে বিরুদ্ধ বাতাস। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদকাল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় অনিশ্চয়তার মেঘ ভর করেছে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরের আকাশে। বিসিবি কর্তারা সেই শুরু থেকেই বলে আসছেন সবকিছু ঠিক হয়ে আসবে লঙ্কা থেকে। যদিও বাস্তবে বলটা এখন বিসিবির কোর্টে।
গত শনিবারই বিসিবিকে নিজেদের প্রস্তাবনা পাঠিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। এখন বিসিবির সম্মতির ওপরই সফরের ভাগ্য নির্ভর করছে। পর্যালোচনার পর গতকাল বিসিবিও নিজেদের পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে এসএলসিকে।
লঙ্কান গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিসিবিকে তিনটি শর্ত দিয়েছে এসএলসি। প্রথমত বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন করতেই হবে বাংলাদেশ দলকে। দ্বিতীয়ত, খেলোয়াড়দের করোনা পরীক্ষা হবে এবং তৃতীয়ত কোয়ারেন্টাইনের সময় হোটেলেই অবস্থান করতে হবে মুমিনুলদের।
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের কথা বলেছে এসএলসি। যেখানে আপত্তি বিসিবির। শনিবার বিসিবির প্রধান নির্বাহীও বলেছেন, তাদের চাওয়া সর্বোচ্চ সাত দিন কোয়ারেন্টাইন।
লঙ্কান দৈনিক সানডে অবজারভারের প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, শুরুতে বিসিবি ৬৫ জনের বিশাল বহর নিয়ে যেতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যদিও এসএলসি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতীয় দল ও অফিসিয়াল মিলে ৩০ জনের বহরকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে এসএলসি।
বাংলাদেশের বহর ছোট করার মানে এইচপির শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলের সফর গুরুত্ব পাবে আগে। গতকাল এইচপি চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কথায়ও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। জাতীয় দলের সঙ্গে হবে না এইচপির সফর। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের নির্বাচকদের সঙ্গে মিটিংয়ের পর দুর্জয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এইচপির ট্যুরটা তো আলাদা, অগ্রাধিকার তো পাবে জাতীয় দলের সফর। কারণ এইচপির যে আমাদের ক্যাম্প সেটা আমরা এখন করতে পারব পরেও করতে পারব। কিন্তু জাতীয় দলের যে সফর সেখানে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে যে আপনারা জানেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যাপার আছে। সেক্ষেত্রে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে যদি আমরা যদি এই উইন্ডোটা মিস করি তাহলে নতুন উইন্দো বা স্লট বের করা কঠিন হবে। সুতরাং জাতীয় দলের টেস্ট সিরিজটা অগ্রাধিকার পাবে।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এসএলসির। সংস্থার প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা সানডে অবজারভারকে বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই আমরা ভাইরাসের হুমকি কমাচ্ছি এবং জাতীয় স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করছি। আমরা বিসিবির মতামতের জন্য অপেক্ষা করবো এবং তারপর পরবর্তী আয়োজন শুরু করব।’
খসড়া সূচি অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কায় যাবে মুমিনুল বাহিনী। এবং ২৩ অক্টোবর ক্যান্ডিতে শুরু হতে পারে প্রথম টেস্ট।