প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামে ৭ কোটি টাকা লোপাট

পরিবার পরিকল্পনার দুই কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামে ভুয়া বিল দেখিয়ে ৭ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই দুজন হলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পিএম) জাকিয়া আখতার ও উপপরিচালক (স্থানীয় সংগ্রহ) আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী। গতকাল রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অন্যদিকে একই অভিযোগ অনুসন্ধানে আজ সোমবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম রোকনুজ্জামান ও গবেষণা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি দত্তকে এবং আগামীকাল পরিচালক (আইইএম) ড. আশরাফুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। এদের সবাইকে গত ৩ সেপ্টেম্বর কমিশন থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের সারা দেশে ৪৮৬টি ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের আয়োজন করে। কর্মশালায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা ও যাতায়াত বাবদ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সই জাল করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৭ কোটি টাকা আত্মসাত্ হয়। অধিদপ্তরের ‘আইইএম ইউনিটের ইউনাইটেড নেশন পপুলেশন ফান্ড খাতে বরাদ্দ ছিল (২০১৯ সালে) ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ঐ টাকা কোনো কাজ না করেই অগ্রণী ব্যাংক, ওয়াসা ভবন শাখা থেকে তোলা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩৯টি কোটেশনের বিল দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঐ বছরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আশরাফুন্নেছার ভাগনের মালিকানাধীন ‘রুহী এন্টারপ্রাইজ’ কোনো কাজ না করে ৮৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন হয়।

অন্যদিকে কাজ না করেই তার আপন চাচাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন ‘সুকর্ন এন্টারপ্রাইজ’কে ১ কোটি টাকার কার্যাদেশ দিয়ে বিল উত্তোলন হয়েছে। ‘রুহী এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘সুকর্ন এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে বরাদ্দ ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা উত্তরা ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে তোলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে কমিশন নোটিশ পাঠিয়ে সুকর্ন ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফাইজুল হক ও মেসার্স রুহী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোশতাক আহমেদ রুহীকে গত ২৬ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশনে হাজির হতে বলা হয়। ঐ দিন ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফাইজুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মেসার্স রুহী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোশতাক আহমেদ রুহী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশনে হাজির হননি।