কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, ব্যত্যয় ঘটালেই বিচার হবে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যা মামলার বিচার হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদেরও বিচার হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় এই উপমহাদেশে প্রথম সাজাও তার সরকারের সময় হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই দেশে সকলকেই আইন মানতে হবে এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিচার হবে ও আইনসংগতভাবে সাজা হবে। এটা সকলকে মনে রাখতে হবে। গতকাল রবিবার ফরিদপুরে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটতলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. সেলিম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-১ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে—মনজুর হোসেন ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন) এমপি, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ ও এম খালেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব বিকাশ কুমার সাহা।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, জনগণ আমাদের ওপর তখনি আস্থা রাখবে, যখন তারা সঠিক বিচার পাবে। বিচার বিভাগকে কার্যকর করার জন্য বিচারক ও আইনজীবী অত্যন্ত মূল্যবান দুটি অঙ্গ। এই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সেটাও বাস্তবায়ন করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে জনগণ এসব কাজের সুফল পাবেন। বর্তমানে ৩৭ লাখ মামলাজট রয়েছে। এ জট কমাতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সংবিধানে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা থাকলেও সামরিক ও খালেদা জিয়ার সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন এবং এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের পহেলা নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়।