গল্পনির্ভর ছবির পরিবেশ একদিন আসবে সেদিন হয়তো আমি থাকবো না

মঞ্চকর্মী হিসেবেই অভিনয়ের শুরু বরেণ্য শিল্পী সাদেক বাচ্চু’র। সেই ১৯৭২ সালে মঞ্চে কাজ শুরু। সেই প্রাথমিক সোপানেই ‘নির্ভরযোগ্য গুজবে প্রকাশ’ নামের একটি একক নাটকে কাজ করে তিনি হৈ চৈ ফেলে দিলেন! ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট টানা অভিনয় করলেন। আমাদের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম স্তম্ভ এই মানুষটিকেও কেড়ে নিলো করোনা মহামারি! দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক। জীবনের সর্বশেষ সাক্ষাত্কারটিও ছাপা হয় ইত্তেফাকেই। সেই দীর্ঘ কথপোকথনের কিছু অংশ প্রকাশ করা হলো বরেণ্য এই শিল্পীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

ঢাকা চলচ্চিত্রের বাজারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

এখন তো সিনেমা নির্মাণ অনেক কমে গেছে। যে ক’টি নির্মিত হচ্ছে সেখানে আমার মতো সিনিয়র শিল্পীদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। যারা বোঝেন, জানেন, তারা ডাকেন। এর বাইরে টুকটাক নাটকে কাজ করছি। এই তো, এভাবেই চলে যাচ্ছে। তবে চলচ্চিত্রের জন্য মনটা খুব কাঁদে। নিজের জীবনের সেরা ও পরিশ্রমের সময়গুলো এখানে দিয়েছি, এখানে কাটিয়েছি। সেই জায়গাটার এমন দূরাবস্থা দেখে সত্যি খুব কষ্ট হয়।

জসিম, সালমান শাহ, মান্না, শাকিব, কে বেশি সার্থক?

আমি বলবো, প্রত্যেকেই সার্থক। আমি ৪ জনের সঙ্গেই কাজ করেছি। সবাইকে কাছ থেকে দেখেছি। সবাই সফল।

মান্না ও শাকিব খানের সঙ্গে অসংখ্য সিনেমায় আপনি কাজ করেছেন। তাদের প্রসঙ্গে আপনার অভিমত শুনতে চাই—

প্রত্যেকটা মানুষেরই আলাদা আলাদা স্বত্ব থাকে। মান্না সাহেব যে সব ফ্লেভারের সিনেমাগুলো করেছেন, বিশেষ করে কাজী হায়াত, মালেক আফসারী, এফআই মানিকের এগুলো এক ধরনের মাপের ছবি। বলতে গেলে উনি এন্টি হিরো। খল-নায়কের মতোই অভিনয় করেছেন, কিন্তু মূল কাজটাই হলো সমাজ সংস্কারের। শাকিব প্রতিবাদী ও রোমান্টিক চরিত্রের মাধ্যমেই কিন্তু আজকের সুপারস্টার। মান্না ও শাকিব দু’জনই অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন।

শাকিব-সাদেক বাচ্চু জুটি ও পরবর্তী সময়কে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

শাকিবের সঙ্গে আমার প্রচুর কাজ। মিশা আমার ছেলের অভিনয় করতো, শাকিবের সঙ্গে মূল ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করতাম। এখন কথা হলো, বয়স তো একটা ব্যাপার। পরবর্তীতে দেখা গেল, অনেক ছবিতে শাকিবের বাবার ক্যারেক্টার করা শুরু করলাম। কিন্তু পরের ছবিতেই যখন আবার শাকিবের সামনে ভিলেন হয়ে দাঁড়াবো তখন বিষয়টা কেমন হয়ে যায় না? তখনই আমি মিশার বাবা হয়ে যাই! তখন মিশাকেই শাকিবের মুখোমুখি হতে হয়।

নায়ক-খলনায়ক জুটি হলে তা কতটা সহায়ক?

কয়েকটা ছবি যদি একই নায়ক-খলনায়ক একসঙ্গে কাজ করেন তাহলে দু’জন-দু’জনের কেমিস্ট্রি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। কাজগুলোও একটু অন্যমাত্রা পায়। এটা ঠিক জুটি বাঁধা নয়, তবে এটা খারাপ হয় না।

এই সময়ে আপনাকে নায়ক করলে নায়িকা হিসেবে কাকে চাইবেন?

এখন নায়ক হলে আমাকে তো যাদের বয়স হয়ে গেছে তাদের কথাই বলতে হয়। সেটা মনেই থাক!

জীবনে কোনো আক্ষেপ আছে কী?

নাহ! আমি তৃপ্ত। তবে একটা জায়গা একটু আক্ষেপ আছে। এখন যে চিত্রনাট্যগুলো হচ্ছে সেগুলো আমাদের অভিনয়ের জন্য মানানসই নয়।

নিজের এই দীর্ঘ জীবনে স্বপ্নসাধ?

ইচ্ছে করে সেই শুরুর মঞ্চের গল্পটির মতো একক বা কেন্দ্রীয় কোনো চরিত্র যদি পেতাম। নিজের সবটুকু দিয়ে কাজ করার সুযোগই তো পেলাম না। গল্পনির্ভর ছবির পরিবেশ একদিন আসবে, সেদিন হয়তো আমি থাকবো না।