কালাছড়া বনের টিলা ও ছড়া খুঁড়ে চলছে বালু উত্তোলন!

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কালাছড়া বন বিটের টিলা, বাচ্চাদের খেলার মাঠ ও পাহাড়ি ভেড়াছড়ার বিভিন্ন স্থানে খুঁড়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত এক মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করায় বিনষ্ট হচ্ছে গ্রামের রাস্তা, হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। গতকাল সোমবার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বালুভর্তি ট্রাক আটক করেছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ি ভেড়াছড়ার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। 

এছাড়া মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কালাছড়া বন বিটের টিলা খুঁড়ে নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ট্রাকযোগে বালু বহন করার কারণে ভেড়াছড়া গ্রামের রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ পেয়ে সোমবার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেড়াছড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার, সোলেমান বলেন, এসব বিষয়ে কে কথা বলবে? বালু নেওয়ার জন্য তারা রাস্তায় বালু ও কনক্রিট ফেলে ট্রাক আনা-নেওয়া করছে। কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সুন্দর আলী বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দেয়ার পরও কে বা কারা বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীও অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বনকর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বালুভর্তি ট্রাক আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা যখন স্পটে যাই তখন তারা পালিয়ে যায়। আজ আমাদের মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কালাছড়া বন বিটের টিলার বালু বহন করার সময় বালুবোঝাই ট্রাক আটক করেছি। তবে বালু উত্তোলনে কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, জায়গাটি বনবিভাগের ছিল। এ বিষয়ে বনবিভাগের সঙ্গে কথা বলব। পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জানান, তিনি কয়েক দিন আগে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তবে কারা জড়িত সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।