চলতি মাসেই খুলছে নাট্যমঞ্চ, মিলনায়তন

শিল্পকলা একাডেমি নীতিমালা প্রস্তুত করছে

আসিফুর রহমান সাগর

করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে এ মাসের শেষ নাগাদ খুলে যাচ্ছে দেশের মঞ্চ ও মিলনায়তনগুলো। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ইত্তেফাককে গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কত তারিখে তা খুলছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। এ মাসের মধ্যেই তা কার্যকর করা হবে।

নাটকের সংগঠনগুলো গত দেড় মাস ধরেই খুব দ্রুত ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিসহ অন্য সব মঞ্চ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বলছে, গত মাসেও এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাই মঞ্চ খুলে দেওয়ার শুধু আশ্বাস না দিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তারা বলছেন, অফিস-আদালত, পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল চালু হয়ে গেছে। ঘরোয়াভাবে ওয়াজ মাহফিলও শুরু হয়েছে। এসব চালু হলে মঞ্চগুলো বন্ধ রাখার যুক্তি কী? সে কারণেই দেশের নাট্যমঞ্চ ও মিলনায়তনগুলো খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কাছে চিঠি দিয়েছে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন।

এদিকে সারা দেশের মঞ্চ ও মিলনায়তনগুলো খুলে দিতে শিল্পকলা একাডেমি নীতিমালা প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্দেশিত নীতিমালা সামনে রেখেই তা করা হচ্ছে। নাটকসহ অন্যান্য সব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু মঞ্চ নয়, এর পাশাপাশি মহড়াকক্ষেরও প্রয়োজন হয়। একটি নাটকের প্রস্তুতির জন্য মহড়াকক্ষ ব্যবহার করতে হয়। মঞ্চ প্রস্তুতেও অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। সেজন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভিন্ন নির্দেশনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই নীতিমালায় এক-তৃতীয়াংশ দর্শক রাখা, দর্শকদের মাস্ক পরে মিলনায়তনে প্রবেশ নিশ্চিত করা, মহড়ার সময় মাস্ক পরা নিশ্চিত করা প্রভৃতি নিয়ম রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় নাট্যশালাসহ তাদের মিলনায়তনগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মঞ্চে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকেই এ নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই নাটক মঞ্চস্থ করতে চাই। নাটকের শিল্পী, কলাকুশলী, দর্শক কাউকেই ঝুঁকিতে না ফেলে আমরা নাটকের প্রদর্শনী করতে চাই।