ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর পর ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের আট পুলিশসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালাতে মামলা করেছেন সমর কৃষ্ণ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সমর চৌধুরীর বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নে।
গত দুই বছরের বেশি সময় আগে বোয়ালখালী উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সঞ্জয় দাশ ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে থানার পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে এই ঘটনা ঘটান বলে মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, বোয়ালখালী থানার তখনকার এসআই আতিক উল্ল্যাহ, ওসি হিমাংসু কুমার দাশ, এসআই আরিফুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুল আলম আকন্দ, এসআই আবু বক্কর সিদ্দিকী, এসআই রিপন চাকমা, এএসআই আলাউদ্দিন, এসআই দেলোয়ার হোসেন, লন্ডন প্রবাসী সঞ্জয় দাশ, তার কেয়ারটেকার সজল দাশগুপ্ত এবং স্থানীয় ওয়ার্ডের চকিদার দিদারুল আলম।
মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, বোয়ালখালী উপজেলার সরোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা, স্বপন দাশের সঙ্গে লন্ডন প্রবাসী সঞ্জয় দাশের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আর শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে সমর চৌধুরী আইনি বিষয়ে স্বপন দাশকে সহযোগিতা করতেন। আসামি সঞ্জয় দাশ চট্টগ্রামের তত্কালীন ডিআইজি এস এস মনিরুজ্জানের সঙ্গে পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বোয়ালখালী থানার তত্কালীন ওসি হিমাংসু কুমার দাশ ও অন্য পুলিশ সদস্যদের প্ররোচিত করে একটি মাদক মামলায় ৩ নম্বর আসামি করেন সমর কৃষ্ণকে।
২০১৮ সালের ২৭ মে সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যরা নগরীর কোর্ট রোড এলাকা থেকে সমরকে একটি মাইক্রোবাসে ‘তুলে নিয়ে’ বোয়ালখালী থানা হাজতে নিয়ে যায় এবং তত্কালীন ওসি হিমাংসু সেখানে তাকে ‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং লাথি মারেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গভীর রাতে কয়েক জন পুলিশ সদস্য হাতকড়া পরিয়ে সমরকে থানার বাইরে নিয়ে ঘোরাতে থাকেন এবং ‘ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা’ দাবি করেন। পরে তাকে নিয়ে তার সারোয়াতলীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।
তার আইনজীবী জুয়েল দাশ বলেন, ‘আমার মক্কেলকে মিথ্যা মামলার কারণে প্রায় দেড় মাস জেল খাটতে হয়েছে। তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে চারটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সেসব মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।’