এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র শিক্ষক

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিলখানা, ঢাকা

আমি কোনো আগন্তুক নই

 

১.নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,তাই আমি পৃথিবীর রূপ

খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে

চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে

ভোরের দোয়েলপাখি-চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ

জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের ক’রে আছে চুপ;

ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে!                                                                                                          

ক.কবি কোন দেশের পথিক নন?

খ.“আমি এই উধাও নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক”- কবি নিজেকে এ কথা বলেছেন কেন? বুঝিয়ে লেখ।                                          

গ.উদ্দীপকটি ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার সাথে কোন দিক থেকে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।                                                     

ঘ.উদ্দীপকটি ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার পূর্ণরূপ ধারণ করে কি? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।                                

ক.কবি ভিনদেশের পথিক নন।

খ.নদীর কিনারে ধু-ধু বালুচর দেখে কবি মুগ্ধ হয়েছেন, তাই তিনি নিজেকে ‘উধাও নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক’ বলে মনে করেন।

অবোধ বালক বলতে এখানে ‘অবুঝ বালক’ বোঝানো হয়েছে। ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা যাদের নেই সেই বালকদের অবোধ বলা হয়। ছোট বালকদের সাথে তুলনা করে কবি নিজেকে অবোধ বলেছেন। কেননা,তিনি ছোট বালকের মতো ধু-ধু নদীর কিনারের বালুচরকে নিজের অস্তিত্বে ধারণ করে মুগ্ধ হয়েছেন। তাই কবি নিজেকে উধাও নদীর রূপে মুগ্ধ অবোধ বালক বলে মনে করেন।

গ.প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের সংলগ্ন হয়ে বেঁচে থাকার দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার সাথে সম্পর্কিত। জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। কোনো অবস্থাতেই মানুষ জন্মভূমিকে অবহেলা করে মহত্ হতে পারে না। জন্মভূমি তার সন্তানকে মায়ের মতোই আদর দিয়ে, মমতা দিয়ে ভরে রাখে। ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কবির ভাষায় এভাবেই জন্মভূমি ও এর অনুষঙ্গের প্রতি মমত্ববোধ ও গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবি স্বদেশের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তাই তিনি পৃথিবীর অন্য দেশের রূপ খুঁজতে চান না। কবি এদেশে জন্ম নিয়ে এদেশের মাটিতেই বড় হয়েছেন। তাঁর চারপাশের চিরচেনা পরিবেশেই তিনি থাকতে চান। ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায়ও স্বদেশের প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশের মাটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকতে চান। তাঁকে কেউ আগন্তুক বললে তিনি তা মেনে নেন না এবং তা প্রমাণের জন্য এদেশের সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের অনেক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি তাদেরকে প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ মানুষ,ফুল,পাখি,নদী সবকিছুর সাথে তাঁর পরিচয়ের কথা বলেন। এ দিকগুলো উদ্দীপকে বর্ণিত কবির স্বদেশ ও প্রকৃতি­প্রেমের বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত।

ঘ. না, উদ্দীপকটি ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার পূর্ণরূপ ধারণ করে না। জন্মভূমির সবকিছুই মানুষের মনে আজীবন গাঁথা থাকে। জন্মভূমির প্রকৃতি,মাঠ,ঘাট, খেত সবই চিরচেনা হয়ে মনের মাঝে ঠাঁই করে নেয়। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে থেকেই মানুষ সমগ্র দেশকে আপন করে পায়। ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি আহসান হাবীব দেশপ্রেম ও প্রকৃতিপ্রেমের ডোরে এ বিষয়টিকেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। কবি জন্মভূমি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন বলে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রূপ খুঁজতে চান না। কবি তাঁর জন্মভূমি বাংলাকে পুরো সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন। তিনি মনে করেন, পৃথিবীর অন্য কোথাও এমন প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য নেই। ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি স্বদেশপ্রেমের অতুলনীয় পরিচয় প্রদান করেছেন। এখানে কবি জন্মভূমির সাথে তাঁর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্য কবিকে মুগ্ধ করেছে।