মহসিন মিয়া, খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
খালিয়াজুরী উপজেলায় ‘আফাল’ দুর্যোগে এবারের বর্ষায় অন্তত ৬০টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের ঝোড়ো হাওয়ায় উন্মুক্ত জলরাশির মধ্যে সৃষ্ট ঢেউয়ের তাণ্ডবকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘আফাল’। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত প্রায়ই হাওর পাড়ের এ উপজেলাটিতে দেখা দেয় আফাল দুর্যোগ। আফাল দুর্যোগে বিগত কয়েক দশকে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে খালিয়াজুরীর ২০টি গ্রাম। খালিয়াজুরী হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ জানান, ঐ গ্রামগুলো বিলীনের সময় যতটা প্রবল গতিতে আফাল তাণ্ডব হতো ঠিক ততটা না হলেও এর কাছাকাছি গতিতে এবারও খালিয়াজুরীর অন্তত ৬০টি গ্রামে চলছে এ তাণ্ডব। চলতি মাসেও বয়ে চলা এ তাণ্ডবলীলার শিকার হচ্ছে উপজেলার এই গ্রামগুলো। আফালের শিকার এসব গ্রামের মানুষের দিন কাঠছে এখন আতঙ্ক আর উত্কণ্ঠার মধ্যে। কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান শামিম মিয়া বলেন, এবারের বর্ষায় আফাল তাণ্ডবে ইউনিয়নটিতে গ্রাম ভাঙন ছাড়াও কৃষ্ণপুর ঈদগাঁ মাঠ থেকে কুতুবপুর পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষা প্রাচীরও ভেঙে গেছে। এ ইউনিয়নটির মতো আফাল দুর্যোগের কবলে রয়েছে খালিয়াজুরীর অন্য পাঁচটি ইউনিয়নেরও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অসংখ্য স্থাপনা।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট খালিয়াজুরী ত্রাণ কার্যালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব আহমেদ জানান, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৫টি গ্রামের মধ্যে ৬০টি গ্রামই আফাল তাণ্ডবের শিকার। এর মধ্যে অধিকতর তীব্র গতিতে ভাঙছে ৫০টি গ্রাম। স্থানীয় এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউনূস আলী জানান, ভাঙন ঠেকাতে এসব গ্রামে ছোট (সিঙ্গেল্স) পাথার, বালু ও সিমেন্টে তৈরি জুতসই আকারের ব্লক (সুরক্ষা বেষ্টনী) দিয়ে ঢালু (স্লুপ) করে প্রতিরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করাটাই হবে যুগোপযোগী কাজ। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, আফাল তাণ্ডবে ভাঙছে এমন গ্রামগুলোকে চিহ্নিত করে তা মেরামত এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জব্বার বলেন, আফাল দুর্যোগের শিকার হওয়া এখানকার অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র ও কৃষি নির্ভর। প্রতিবছরই তাদের কষ্ঠার্জিত কৃষি আয়ের শতকরা ৪০ ভাগ টাকা ব্যয় করেন আফাল তাণ্ডবের কবল থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য। অবিলম্বে এখানকার গ্রাম প্রতিরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলকে এগিয়ে আসার অনুরোধও জানাচ্ছি।