শ্রীপুর পৌরসভার বর্জ্য পরিশোধন

শ্রীপুর পৌরসভা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ পৌর অঞ্চলে ১৫৮টি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। শিল্পকারখানায় কর্মরতসহ এখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। ৪৬.৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় এত শিল্পকারখানা এবং অতিরিক্ত লোকের বসবাস ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। শুরু থেকেই পৌরবাসী নাগরিক সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে পৌরবর্জ্যের অব্যবস্থাপনা। শিল্পের তরল এবং কঠিন বর্জ্য এবং গৃহস্থালি বর্জ্য এখানকার পরিবেশ এবং প্রতিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, শ্রীপুর পৌর অঞ্চলে পরিবেশদূষণ ঘটছে। ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. নঈম আজিজ আনসারী বলেন, ‘শ্রীপুর পৌরসভায় মারাত্মকভাবে পরিবেশদূষণ হচ্ছে এবং শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালিবর্জ্যই এর প্রধান কারণ।’  পৌর অঞ্চলের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মাস্টারবাড়ী বাজারসংলগ্ন দক্ষিণ পাশের গড়গড়িয়া খালের ওপর প্রতিনিয়ত পৌরবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্জ্যের স্তূপ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে মহাসড়কের ওপর পৌরবর্জ্য ফেলায় পথচারী, স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী এবং যাত্রীসাধারণের মারাত্মক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রব সয়ে বসবাস করছে এখানকার ও আশপাশের মানুষ। শ্রীপুরের পৌরবর্জ্য মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে এই ময়লার ভাগাড় অপসারণসহ পৌরবর্জ্যের বিজ্ঞানভিত্তিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কামরুজ্জামান

সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,

মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়, গাজীপুর