পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল। সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে প্রেমপত্রেও। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। কিছুকাল আগে চিঠিই ছিল প্রেম নিবেদনের একমাত্র মাধ্যম। মনের মাধুরী মিশিয়ে বাহারি শব্দ দিয়ে লেখা হতো সেই পত্রগুলো। সারা রাত জেগে, হারিকেন জ্বালিয়ে চিঠি লেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে নব্বই দশকের প্রেমিক-প্রেমিকাদের। এইসব চিঠি ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও ছিল নানা কৌশল। আবার প্রেমিকাকে দেওয়া চিঠি ভুলে তার বাবার হাতে পড়ে যাওয়ায় অকালে ব্যর্থ হয়েছে অনেক প্রেম, ভেঙেছে প্রেমিকের হূদয়। দূরে থাকা ভালোবাসার মানুষের কাছে চিঠি লেখা এবং তার উত্তরের অপেক্ষায় অস্থির হতেন অনেকেই।
প্রেমপত্র এখন আর কষ্ট করে কাগজ-কলম নিয়ে লিখতে হয় না, ডাকঘরে যেতে হয় না, পোস্টের খরচ নেই কিংবা লুকিয়ে কারো বইয়ের ফাঁকেও রাখতে হয় না। মানুষ এখন চাইলে টাইপ করে সুদূর আমেরিকাতেও পাঠিয়ে দিতে পারে প্রেমপত্র। তাও আবার মুহূর্তে। বাহন নেট, ফেসবুক। বদলাচ্ছে পৃথিবী, সহজ হচ্ছে সবকিছু। এখন আর নেই অপেক্ষার কষ্ট। তবু কেন জানি চিঠির জন্য অপেক্ষার সেই কষ্টগুলোই এখনো মিস করেন অনেকেই।
তাহরিমা মাহজাবিন
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা