করোনাকালের এই অস্বস্তিকর জীবন যাপনে কেমন আছি—বলব, খুব ভালো। তবে শুরুর দিকের অবস্থা ছিল বেশ কঠিন। গেল মার্চ মাসে বন্ধ হয়ে যায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারপর আসে মেস ত্যাগ করার নোটিশ। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে বাসায় আছি। কোভিড ১৯-এর কবলে পড়ে জীবন এলোমেলো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এই সময়টা যে হেলাফেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি তা কিন্তু নয়। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি অ্যাডমিশন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পড়তে বসি। দুপুরে পড়ি গল্প-উপন্যাসের বই। রাতে ইংরেজি গ্রামারের নিয়ম-কানুন। বাসায় আছি বলে মা-বাবার দৈনন্দিন কাজে নিজেকে পাকাপোক্তভাবেই জড়িয়েছি। তাছাড়া নিজের পড়ার ফাঁকে ছোটভাইটিকেও পড়ানোর জন্য সময় দিচ্ছি। আগে শুধু বিশেষ দিনগুলোতে মা-বাবার সঙ্গে থাকা হতো। সেদিক থেকে বলতে গেলে এটাও একটা বড় প্রাপ্তি। তবু সত্যি বলতে এখনো সুস্থ আছি। পরিবারের সবাই সুস্থ আছে। জীবনের সঠিক পরিকল্পনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক গুণাবলি চর্চার এ এক উত্কৃষ্ট সময় বলে আমি মনে করি। যা একজন সচেতন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে অতীব প্রয়োজন। এই পৃথিবীতে হয়তো একদিন করোনা ভাইরাস থাকবে না। কিন্তু এসব স্মৃতি কি এত সহজে ভোলার?
ইস্তিয়াক আহমেদ হূদয়
পরীক্ষার্থী, নওগাঁ সরকারি কলেজে