রাজধানীর পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে জেএমবির সদস্য মামুন আল মোজাহিদ সুমন গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মাইজভান্ডারি অনুসারী সোহেল রানাকে (৩৮) গলা কেটে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, গত ৩১ জুলাই রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজার থেকে কবিরাজির কথা বলে সোহেল রানাকে ডেকে নেওয়া হয় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে সুমন নিজ হাতে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। হত্যার পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়।
এই সুমনসহ চার জনকে গত ১১ সেপ্টেম্বর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গত ৩১ জুলাই থেকে নিখোঁজ কবিরাজ সোহেল রানা ওরফে সুজনের বিষয়ে তথ্য মিলে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামুন আল মোজাহিদ ওরফে সুমন ওরফে আবু আবদুর রহমান, আল আমিন ওরফে আবু জিয়াদ, মোজাহিদুল ইসলাম ওরফে রোকন ওরফে আবু তারিক ও সারোয়ার হোসেন রাহাত।
পল্টনে বোমা বিস্ফোরণ ও মাইজভান্ডারি সোহেল হত্যার সঙ্গে জড়িত সুমন ওরফে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলার সন্ধান পেয়েছে সিটিটিসি। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, লুটতরাজ ও অস্ত্র মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শ্রীপুরের বড়মি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন সুমন। সুমনের বাবা মোসলেম মাস্টার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় আরেক নেতা রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। এ কারণে হতাশ হয়ে সে ধীরে ধীরে ধর্মীয় বিষয়ে আগ্রহী হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নব্য জেএমবির এক সদস্য তাকে জেএমবি নেতা নাইমুজ্জামানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। সোহেলকে হত্যার মাধ্যমে সংগঠনে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ দুইটি ছবি প্রকাশ করে। ছবির শিরোনামে তারা লিখেছিল, ‘বাংলাদেশের রাজধানীর উত্তরে জাদুবিদ্যার চর্চাকারীকে আইএসের হত্যার প্রমাণাদি’। একটি ছবিতে দেখা গেছে, ন্যাড়া মাথার গেরুয়া পোশাক পরা এক ব্যক্তি জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা। মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা।
সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, বরমী বাজারের পরিত্যক্ত ইটভাটায় সোহেল রানাকে হত্যা করে সেই লাশ বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয় নদীতে। মঙ্গলবার ঐ নদীতে লাশের সন্ধান চালানো হয়েছে। পাওয়া যায়নি লাশ। তবে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য কাপাসিয়া থানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছেন, আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখের মধ্যে তাদের কোনো একটি ‘কাজ’ করে দেখানোর দায়িত্ব ছিল। নাইমুজ্জামানের নির্দেশনা মতে তারা টার্গেট ফিক্সড করতে গিয়ে বড়মি বাজারের মাইজভান্ডারি সোহেল রানাকে টার্গেট করে। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারের পর সুমনসহ চার জঙ্গি পল্টনে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত থাকার পাশাপাশি গাজীপুরের মাইজভান্ডারি সোহেল রানাকে গলা কেটে হত্যার কথাও স্বীকার করেছে।