ফ য় জু ল আ ল আ মী ন
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৪ সে্বেম্বর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বরেণ্য এই অভিনেতাকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা।
সাদেক বাচ্চুর আসল নাম মাহবুব আহমেদ সাদেক। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও জন্ম ঢাকায়ই। সিনেমার কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশাম ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রে তার নাম বদলে সাদেক বাচ্চু করেন। সেই থেকেই তিনি এ নামে পরিচিত।
টিঅ্যান্ডটি নাইট কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেন সাদেক বাচ্চু। কর্মজীবনে তিনি ডাক বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিনয় শুরু তার ১৯৬৩ সালে, খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিও দিয়ে। একই সঙ্গে মঞ্চেও বিচরণ করেন। প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ’। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে (১৯৭২-৭৩) যখন এদেশের সাংস্কৃতিক বলয় নতুনভাবে তৈরি হচ্ছিল— তখন যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন। প্রথম নাটক ছিল ‘প্রথম অঙ্গীকার’। নাটকটি পরিচালনা করেন আবুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। সোজন বাদিয়ার ঘাট, নকশী কাঁথার মাঠ সহ অসংখ্য নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। ঝুলিতে যুক্ত হয় প্রচুর সুপারহিট নাটক।
প্রথম চলচ্চিত্র শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’ অবলম্বনে শহীদুল আমিনের পরিচালনায় একই নামের ছবিতে তিনি নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। আরও একটি চলচ্চিত্রে সুনেত্রার বিপরীতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। খল চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রে। শহীদুল হক খানের এই ছবিতে নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বহু সিনেমায় সাদেক বাচ্চুকে দেখা গেছে দুর্দান্ত অভিনয়ে। মৌসুমী চলচ্চিত্রে ‘চাচা ঢাকা কতদূর?’— সাদেক বাচ্চুর এই সংলাপটি ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)। ২০১৮ সালের ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেরা খল চরিত্রাভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সাদেক বাচ্চু। শুধু অভিনয়ই নয়, লেখালেখিতেও যুক্ত ছিলেন সাদেক বাচ্চু।