ঝুলেই রইল বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কার সফরসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে বিসিবি। তারপর থেকেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) উত্তরের অপেক্ষায় আছে বিসিবি। যদিও গতকাল পর্যন্ত কোনো জবাব পাঠায়নি এসএলসি। দেশটির গণমাধ্যমকর্মীদের সূত্র বলছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে।
তবে এই সফরের জন্য নিজেদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি রাখছে না বিসিবি। গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস সাংবাদিকদের বলেছেন, সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিসিবি। লঙ্কানদের জবাবের অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি সফরকেন্দ্রিক নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। যাতে এসএলসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর সাত দিনের মধ্যেই উড়াল দিতে পারে বাংলাদেশ দল।
যার অংশ হিসেবেই আজ থেকে ক্রিকেটারদের দ্বিতীয় ধাপের করোনা পরীক্ষা শুরু করছে বিসিবি। লঙ্কা যাওয়ার আগে চারবার করোনা পরীক্ষা হবে টাইগারদের। প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
গতকাল জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘আমরা প্রস্তুত। আগে যেরকম প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল সেরকম প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছি। ইতিবাচক কোনো উত্তর আসলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে পারব। সেদিক দিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। দু-এক দিন হয়তো এদিক সেদিক হতে পারে। বেশি দেরি করলে আবার আমাদের হয়তো নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কোভিড-১৯ টাস্কফোর্সের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করছে এসএলসি। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর মতো অবস্থানে উপনীত হতে পারেনি তারা। বিসিবিকে তাই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বিসিবির এই পরিচালক গতকাল বলেছেন, ‘আমরা এখনো ইমেইলের অপেক্ষায় আছি। আমরা এখনো পাইনি, আশাকরি কয়েক দিনের মধ্যে জানতে পারব।’
করোনার কারণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। তাই সিরিজ আয়োজনে সরকারের সব পক্ষের অনুমতিই লাগছে এসএলসির। জালাল ইউনুস বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটেরও না, তাদের একটা টাস্ক ফোর্স আছে, এই টাস্ক ফোর্স কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করে শ্রীলঙ্কাতে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে, তারা জানলে আমরা পরে জানতে পারব।’
এসএলসির প্রস্তাবে ছিল কঠিন সব শর্ত। যা মানতে রাজি নয় বিসিবি। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ কমানো, অনুশীলনের সুযোগ বাড়ানোই ছিল বিসিবির মূল চাওয়া। এসএলসি ৩০ সদস্যের দল ও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের প্রস্তাব করেছিল। সঙ্গে ক্রিকেটাররা হোটেল থেকে বের হতে পারবে না। এমন কঠিন শর্তে সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছিল বিসিবি।