চাকরি দেওয়ার নামে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সন্ধান

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। শিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা বেকার যুবকদের বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্দর, ডাস বাংলা ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ নামিদামি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশ মো. ইব্রাহিম নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে আরো প্রতারণতার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত আরো ১৫ ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ধৃত ইব্রাহিম গত কয়েক বছর যাবত্ চাকরি প্রদানের নামে শিক্ষিত যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে। শুধু চাকরিই নয়, সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় বদলির কাজ করছে ইব্রাহিম। ধৃত ইব্রাহিম নগরীর খাজা রোড পাক্কা দোকান এলাকার হামিদ শরিফের পুত্র। নগন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রতারক ইব্রাহিমের সঙ্গে আরো এক মহিলা ও পুরুষ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, চার দিন আগে ভুক্তভোগী               মোহাম্মদ নাজিম নামে এক ব্যক্তি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। নাজিম কেডিএস গ্রুপে চাকরি করতেন। তিনি ৩০/৪০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। প্রতারক ইব্রাহিম তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথম দফায় ২০ লাখ টাকা নেয়। এই জন্য নাজিমকে ইন্টারভিউর জন্য কয়েক বার ঢাকায় যেতে হয়েছে। এক পর্যায়ে নাজিমকে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম শাখায় চাকরি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র নিয়ে নাজিম বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলে জানতে পারেন এটি ভুয়া নিয়োগপত্র।

গোয়েন্দা পুলিশ আরো জানায়, ধৃত ইব্রাহিম প্রতারক চক্রের মূল হোতা। তার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার আরো লোক জড়িত রয়েছে।