প্রতারক নারী দুই দিনের রিমান্ডে
বিশেষ প্রতিনিধি
এসএসসি পাশ সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদী থানার বাহারপুর। রাজধানীর বাসা বনশ্রী এলাকায়। প্রায় দেড় দশক আগে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। খুব বেশি দিন সংসার করা হয়নি। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ২০১০ সাল থেকে দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘বয়স্ক পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু বিধিবাম। জনৈক নাজির হোসেন নামে এক প্রতারিত ব্যক্তির অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বৃহস্পতিবার গুলশান এলাকা থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে জব্দ করে ভুক্তভোগীদের অনেক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোনসেট, তিনটি মেমোরি কার্ড, সাতটি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত্ করা টাকার একটি হিসাব বই। এ দিকে সিআইডি গতকাল শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জান্নাতুল ফেরদৌসকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌসের ফাঁদে পা দিয়ে আগ্রহী অনেক পাত্র হারাতেন সর্বস্ব। ‘কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি ও সন্তানহীন নারীর জন্য পাত্র চাই’—জাতীয় দৈনিকে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে ৩০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জান্নাতুল। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ হলেও প্রতারক জান্নাতুলের কথাবার্তা ও স্মার্টনেস দেখে কানাডা প্রবাসী ভেবেই সবাই ভুল করতেন। তার ফাঁদে পড়ে কোটি টাকা খোয়া গেছে অনেকের। গত ১১ বছর ধরে সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস পত্রিকায় এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে এভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন। ঢাকা ও এর আশপাশে তার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে নাজির হোসেন প্রতারক জান্নাতুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে গত ১২ জুলাই গুলশান-১ থাই সিগনেচার রেস্টুরেন্টে দেখা করেন। বিয়ের পর তাকে কানাডায় নিয়ে যাবে এবং সেখানে তার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভাল করবেন, জান্নাতুলের এসব কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন। পরে প্রতারক জান্নাতুল জানায়, কানাডায় প্রচন্ড শীত তাই সেখান থেকে তার ২০০ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে আসবেন। পরে দেশেই ব্যবসা করবেন।
শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, ডিএইচএল এর মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত আনতে ভুক্তভোগী নাজির হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে ট্যাক্স/ভ্যাট/ডিএইচএল বিল বাবদ সর্বমোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে প্রতারক জান্নাতুল ফেরদৌস।