করোনার মধ্যে সপরিবারে ব্যতিক্রমী সমুদ্রভ্রমণ

সিএনএন

করোনা মহামারির কারণে গত কয়েকমাস ধরে মহাসাগরগুলি খানিকটা পর্যটন জাহাজ শূন্য। বিশ্ব জুড়ে সমুদ্রযাত্রায় অভ্যস্ত ভ্রমণকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। পানির ওপর যদি কোনো পর্যটকের করোনা ধরা পড়ে তবে পুরো জাহাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় সবাইকে।

এমন পরিস্থিতিতে একটি ইতালীয় পরিবার একটি পালতোলা বোটে একটি ‘মহাকাব্যিক’ অ্যাডভেঞ্চার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা নিয়ে ইতালি বাদেও বিতর্ক শুরু হয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যমেও। কেউ কেউ তাদের সাহসি হিসেবে উল্লেখ করছে। আবার কেউ বলছে ‘চরম বোকা’। লোম্বার্ডির উত্তরাঞ্চলের একটি ছোট শহরের বাসিন্দা স্টেফানো এবং সারা বারবেরিস তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে এক বছর দীর্ঘ সমুদ্রভ্রমণে যাচ্ছেন। এই দীর্ঘ যাত্রার তহবিল গোছাতে তারা নিজেদের বাড়িটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন। এক বছরে তারা আটলান্টিক অতিক্রম করার, ক্যারিবিয়ান ঘুরে দেখার এবং সম্ভব বলে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো ইঞ্জিন ছাড়াই কেবল পালতোলা বোটের ওপর ভিত্তি করে তারা এই বিশালায়তন মহাসমুদ্র পাড়ি দিবেন। সঙ্গে থাকবে তিন শিশুসন্তান ইয়াগো (১১),  নীনা (৮) এবং টিমো (৩)। আরো সঙ্গে নিচ্ছেন একটি ল্যাব্রাডর কুকুরও। বারবেরিস বলেছেন যে তারা তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, কারণ এই যাত্রা তাদের ভবিষ্যত্ জীবনের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত সুযোগ দেবে। আর সমুদ্রে আমরা গোটা পরিবার কোয়ারেন্টাইনের মতোই থাকব। তাই করোনা থেকে সবাই নিরাপদ থাকব। চলতি মাসের শেষের দিকে উত্তর পশ্চিমের ইতালির লিগুরিয়ার লা স্পিজিয়া থেকে প্রথমে স্পেনের বালিয়েরিক দ্বীপপুঞ্জ, তারপর জিব্রাল্টার এবং পরে তারা আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার জন্য যাত্রা করবেন। অর্থাত্ পালতোলা বোট হওয়ায় বাতাস প্রবাহের দিক বিবেচনা করে তাদের যাত্রাপথ নির্ধারিত হবে।

বারবেরিস বলেছেন যে তারা বিদেশি বন্দরে নামার সময় মাস্ক এবং গ্লাভস পরে থাকবেন যেন করোনা সংক্রমিত না হন। তবে বেশির ভাগ ভ্রমণের জন্য তারা নির্জন, শান্ত সৈকত এবং নির্জন উপকূলে ভ্রমণ ও খাওয়া-দাওয়া করবেন।

ইতালির সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে বিষয়টি নিয়ে। কেউ কেউ তাদের সন্তানদের, এমনকি কুকুরকে নিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করছেন। তাদের মন্তব্য, পালতোলা বোটে করে মহাসমুদ্র পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকি বর্তমান সময়ে কেউ নেয় না। যদি কোনো ধরনের বিপদ আসে কিংবা অথৈ সমুদ্রে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন কী করবেন তারা। তবে বারবেরিস বলেছেন, সম্ভাব্য সব ধরনের অসুখের কথা মাথায় রেখে সব চিকিত্সাসামগ্রী তারা সঙ্গে নিচ্ছেন। তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য দরকারি সব উপকরণও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।