১৯ শয্যার বর্ধিত ভবনে চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম!

নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পিরোজপুর অফিস ও স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা

৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ শয্যার ভবনটি ভেঙে ফেলায় বর্তমানে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগসহ হাসপাতালের সব কার্যক্রম সংলগ্ন ১৯ শয্যার বর্ধিত ভবনে চালাতে হচ্ছে। এতে ডাক্তার, নার্স, কর্মচারীসহ আগত রোগীরা পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা সংকটের কারণে জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি অংশকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালে আগত রোগীদের অনেককেই উন্নত চিকিত্সার প্রয়োজনে ছুটে যেতে হয় বরিশাল। এতে বিপাকে পড়তে হয় নিম্ন আয়ের মানুষদের। তাছাড়া, এই উপজেলার অধিবাসী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া এবং নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এখানে চিকিত্সা নিতে অনেকে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ১০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় উন্নত চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ জন ম্যাডিকেল অফিসারসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে চার জন চিকিত্সকের পদও খালি রয়েছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় নরমাল ডেলিভারি ছাড়া সিজারিয়ান অপারেশনসহ কোনো জটিল অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ১টি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। বিরাট এ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফিরোজ কিবরিয়া  ইত্তেফাককে জানান, অতি পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ শয্যার ঐ ভবনটি ভেঙে ফেলায় বর্তমানে হাসপাতালের সব কার্যক্রম ঐ ১৯ শয্যার বর্ধিত ভবনেই চালাতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ অন্য কর্মচারীদের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।