দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
এখন স্রেফ ক্রিকেট নিয়েই সবার ভাবার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই!
ক্রিকেটে ঠিক মন দিতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। সবচেয়ে অস্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সপ্তাহখানেক পরই বিশাল লটবহর নিয়ে শ্রীলঙ্কা রওনা দেওয়ার কথা তাদের। প্রায় দুই মাসের সফরে পাঠানোর কথা জাতীয় দলকে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে চূড়ান্ত কোনো খবর এসে পৌঁছায়নি। দফায় দফায় যোগাযোগ হচ্ছে, কথা হচ্ছে; কিন্তু এখনো চূড়ান্ত নয় সফরের ব্যাপারটা। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন স্বীকারই করলেন, তারা একটু অস্বস্তি নিয়েই অপেক্ষা করছেন।
শ্রীলঙ্কা সফরে কতদিন কোয়ারেন্টাইন করতে হবে, কত সদস্যের দল যাবে, কোথায় প্রথম ক্যাম্প হবে; এগুলোর ব্যাপারে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার (এসএলসি) পাঠানো প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে পালটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল বিসিবি। সেই প্রস্তাব নিয়ে এসএলসি কয়েক দফা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ভেতরের খবর হলো, তারা পরিবর্তিত একটা প্রস্তাবনা পাঠানোর দুয়ারে আছে। বিসিবি গতকালই সেই প্রস্তাবটা পাবে বলে আশা করছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাবনা আসেনি।
গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতের মতো বাংলাদেশেরও শ্রীলঙ্কা সফরটা স্থগিত হয়ে যায়। পরে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে করোনা পরিস্থিতি বেশ ভালো থাকায় বিসিবি সেখানে সফরের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সফরটা বিশেষ পরিস্থিতিতে বলে বিসিবি কিছু বিশেষ সুবিধা আশা করেছিল।
বিসিবি চেয়েছিল কলম্বোতে সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন চলা অবস্থায় অনুশীলন। এবং কোয়ারেন্টাইন শেষে অনুশীলন ম্যাচ খেলার জন্য বাড়তি খেলোয়াড় নিতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু এসএলসি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন রাখতে চায় বাংলাদেশকে হাম্বানটোটায় এবং অনুশীলন ম্যাচের জন্য বাড়তি খেলোয়াড় নিতে দেবে না তারা। এ অবস্থায় পরিবর্তিত প্রস্তাবনা চায় বিসিবি।
এখনো সেই প্রস্তাবনা না পাওয়া বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজেদের অস্বস্তির কথা মেনে নিয়েও বললেন, ‘একটা ডিসকম্ফোর্ট তো আছেই। তবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে সিদ্ধান্ত এলে দেরি না হয়।’