মো. হাছিবুল বাসার মানিক
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গৃহস্থালি কাজে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার জীবনে নিয়ে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্যময়তা। প্রতিদিনই শহর ও গ্রামে রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। রাজধানীর মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে আছে অনেক দিনের পুরোনো গ্যাসের জীর্ণ লাইন। বৈধ লাইনের পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ লাইনও।
ফলে, ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসলাইনের ত্রুটি থেকে বিস্ফোরণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে আমাদের অসতর্কতা, উদাসীনতা ও ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গ্যাসলাইনে ত্রুটির কারণে কী ধরনের বিস্ফোরণ হতে পারে তা এখন বহুল আলোচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মাটির নিচ দিয়ে যেভাবে সেবাসংস্থার সরবরাহ লাইন গেছে এবং ত্রুটিপূর্ণভাবে যেভাবে কাজ করা হয়েছে তা উদ্বেগজনক। রাজধানীর বাইরেও অবৈধ হাজার হাজার গ্যাসলাইন রয়েছে; ঐসব লাইন যে ত্রুটিমুক্ত নয় তা বলা বাহুল্য।
ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, রাজধানীতে অগ্নিদুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশই ঘটে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক বছরে সংঘটিত ১ হাজার অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী গ্যাস।
কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই রাজধানী ও এর আশপাশের গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাইপলাইন লিকেজ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব অবহেলার সর্বশেষ পরিণতিই নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। গ্যাস সংযোগ সেবাপ্রদানকারী কোম্পানির কর্মচারীদের ঘুষ নেওয়ার স্বভাব, সিন্ডিকেট চক্র, স্থানীয় নেতার প্রভাবে বেড়েই চলছে অবৈধ গ্যাসলাইনের সংখ্যা। তাছাড়া কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এখন গ্যাসের সঙ্গে রাসায়নিক মেশানো হয় না। ফলে, রাসায়নিক না মেশানোর কারণে কোথাও লিকেজ হলে আশপাশের মানুষ বুঝতে পারছে না। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির ফলেও গ্যাস সংযোগ লাইনগুলো হরহামেশা প্রাণঘাতীতে পরিণত হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যাচ্ছে প্রাণ। দগ্ধ অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যেহেতু এটি অল্প সময়ের একটি দুর্যোগ; ভূমিকম্পের সময় বা এর পরে গ্যাসলাইনের পাইপে বিস্ফোরণ ঘটলে সৃষ্ট আগুন অতি দ্রুত বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে হলে সরবরাহ লাইনগুলো সময়মতো সংস্কার করতে হবে এবং অবৈধ লাইন প্রদানকারী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়