দাকোপে নদীভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি বিলীনের আশঙ্কা

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা  

ভয়াবহ নদীভাঙনে দাকোপে পানখালী ফেরিঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট ওয়াপদা বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঝপঝপিয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে কয়েক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ ঘরবাড়ি প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও মৌখালী, বটবুনিয়া, কামনিবাসিয়াসহ কয়েকটি পয়েন্টে প্রায় একই অবস্থা।

উপজেলার পানখালী এলাকার ফাল্গুনী হালদার, রাজেন রায়সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের অর্ধেক অংশ ইতিমধ্যে ঝপঝপিয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি প্রবেশ করছে। যে কোনো মুহূর্তে ঐ অংশ বিলীন হয়ে পানখালী, চালনা পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তা না হলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি তলিয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জ্যোতি শংকর রায় বলেন, নদীভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। প্রত্যেক দিন এলাকার প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙনকবলিত স্থানে কাজ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াদুদ জানান, ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। তিনি দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে আমার লোক গিয়েছিল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে তারা কিছু জিও ব্যাগ চেয়েছেন। অফিসের নিয়ম মেনে কিছু ব্যাগ দেওয়া হবে।