চক্রের দুই প্রতারক গ্রেফতার

কারাবন্দিদের পরিবারের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা

মিথ্যা তথ্য দিয়ে জেলবন্দিদের স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম টিম। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে তাদের প্রতারণার অভিনব কৌশল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। তবে এ চক্রের দলনেতাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

গোয়েন্দা পুলিশের ওয়েব বেইজড ক্রাইম টিম ইনচার্জ এডিসি আশরাফ উল্লাহ বলেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের দিকে একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান রাজধানীর কদমতলী এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন। তিনি জেলে থাকাকালীন প্রতারক চক্রের একজন গত ২৬ জুলাই বিকালে তার স্ত্রী হেলেনা আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে বলে, আপনার স্বামী (নুরুল আমিন) জেলখানায় মারামারি করে এক আসামির মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। সে জেলারের আত্মীয়। ১ লাখ টাকা না দিলে আপনার স্বামীর অনেক সমস্যা হবে। এ অবস্থায় নুরুল আমিনের স্ত্রী চিন্তিত হয়ে পড়েন। শেষটায় কোনো উপায় না পেয়ে প্রতারকদের দেওয়া দুটি বিকাশ নম্বরে ৭২ হাজার টাকা পাঠান। সপ্তাহখানেক পর জেল থেকে মুক্তি পান নুরুল আমিন। তিনি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে কদমতলী থানায় অভিযোগ করেন। আর ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

এডিসি আরো বলেন, তদন্তে নেমে গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর ডেমরা থেকে প্রতারক চক্রের সদস্য  রফিকুল ইসলাম সুমন এবং যাত্রাবাড়ী থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে। তবে তাদের দলনেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে এরশাদ এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি জানান, জাহাঙ্গীর একজন পেশাদার প্রতারক। তার বাড়ি কুমিল্লায়। সে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০টি বিয়ে করেছে। আর প্রত্যেক স্ত্রীর কাছে আলাদা আলাদা নাম ও পেশায় পরিচিত।

সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার মীর মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, এরা একটা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। চক্রটির সদস্যরা প্রথমে কারাগারে অথবা রিমান্ডে থাকা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। পরে ঐ নম্বরে ফোন করে কারাগারে থাকা আসামির অসুস্থতা বা কোনো ঝামেলার কথা বলে অথবা রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। চক্রটির সঙ্গে আরো কারা জড়িত এবং আসামিদের পরিবারের ফোন নম্বর তারা কীভাবে সংগ্রহ করে  সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।