জেলা উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন

আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ

দেশের চার জেলা পরিষদ, ৯ উপজেলা এবং ৬১ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামীকাল সোমবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার সতর্ক আওয়ামী লীগ। সুবিধাভোগী, সুযোগসন্ধানী, দুর্নীতিবাজ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীসহ বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। স্বাধীনতাবিরোধী  ও তাদের পোষ্যদের আবেদন গ্রাহ্য না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজাকারের ছেলে-নাতি-স্বজন যারা বিভিন্ন উপায়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছেন, তৃণমূল থেকে তাদের জন্য সুপারিশ না পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও কোনোভাবে তৃণমূল সুপারিশ করলে কেন্দ্র তাদের বাদ দিয়ে দেবে। এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লিখিত নির্বাচনগুলোতে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। আজ রবিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে দলীয় আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত মোট ১১৮ জন নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন।

জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জেলা-উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ছয় সদস্যের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হচ্ছে। আর প্রার্থী বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলে ভার্চুয়ালি ভোটাভুটির আশ্রয়ও নেওয়া হচ্ছে। জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচারে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীর জন্য তৃণমূল সুপারিশ করছে। আবার কোথাও কোথাও জরিপের ভিত্তিতে সুপারিশ করা হচ্ছে। এবার প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এমপিরা কোনো রকম হস্তক্ষেপ কিংবা প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না। এমনকি দলের যেসব জেলা-উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক একই সঙ্গে মন্ত্রী কিংবা এমপি- তারাও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে যুক্ত হতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন হতে যাওয়া জেলা পরিষদগুলো হলো— ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর ও ফেনী। ৯টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে—নওগাঁর মান্দা, যশোর সদর, বাগেরহাটের শরণখোলা, খুলনার পাইকগাছা, মাদারীপুরের শিবচর, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, কুমিল্লার দাউদকান্দি, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া। এছাড়া সারাদেশে ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এমপিদের ডিও লেটার আমলে নিচ্ছে না কেন্দ্র

আওয়ামী লীগ বলছে, তৃণমূলের পাঠানো প্যানেল তালিকার বাইরে ইউপি নির্বাচনে ফরম কেনার সুযোগ নেই। এমনকি দলীয় সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ‘ডিও’ লেটার দিয়ে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য পাঠালেও তা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি শুরু হলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী অনেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ‘ডিও লেটার’ নিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে আসেন। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনের জন্য এমপিদের ‘ডিও লেটারে’র ভিত্তিতে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রির কোনো নিয়ম নেই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না, সেখানে আমরা সমর্থন  দেই। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই এসব নির্বাচনে তৃণমূলের সুপারিশ ছাড়া উন্মুক্তভাবে মনোনয়ন ফরম বিতরণের নিয়ম নেই।

তিনি বলেন, নিয়ম হলো—যে ইউনিয়নে নির্বাচন হবে, সেই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ একটি বর্ধিত সভা করবে। সেখানে তারা তিন জনের একটি প্যানেল তৈরি করবে। তারা সেটি উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ ফরোয়ার্ডিংসহ সেটি জেলা আওয়ামী লীগে পাঠাবে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই ছয় জনের যৌথ সইয়ে সর্বোচ্চ তিন জনের একটি প্যানেল কেন্দ্রে আসবে। ঐ প্যানেলকে আমরা মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র দেব। এর বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারো মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কেনার সুযোগ নেই। এমপিরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর বিষয়ে সুপারিশ করতেই পারেন। কিন্তু তারা তাদের সুপারিশটা করবেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাছে। সাংগঠনিক যে চেইন অব কমান্ড আছে, সেটি মেনেই করতে হবে।