দারিদ্র্যদের হার ৩৫ শতাংশ হতে পারে :বিশ্বব্যাংক

করোনার প্রভাবে দেশের দারিদ্র্য হার বেড়ে ৩৫ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে করোনার প্রভাবে দেশের মানুষের ভোগ ব্যয় কমে গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সরকারি হিসাবে দেশে ২৩ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। এর বাইরে দারিদ্র্য রেখার ওপরে ৫৪ শতাংশ মানুষ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের আয় কমে গেলে পুনরায় দারিদ্র্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনার প্রভাবে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত ভোগ ব্যয় কমেছে। ফলে নতুন করে ১৩ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়বে। সেই হিসাবে সবমিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসতে পারে ৩৫ শতাংশ মানুষ।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই হাজার পরিবারের উপর পরিচালিত এক জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার ঝুঁকি কমাতে দেশে ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে ছুটি বা লকডাউন ছিল। জরিপকালে ৩২ শতাংশ জানিয়েছে ছুটির শুরু থেকেই তাদের কাজ বন্ধ ছিল। উত্তরদাতাদের এক-চতুর্থাংশ বেকার হয়ে পড়েছে। যারা বেকার হয়ে পড়েছে তাদের ৬৮ শতাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক। এর উল্লেখযোগ্য শহুরে বস্তিবাসী। জরিপে উত্তরদাতাদের ৮০ শতাংশই বলেছে করোনার এই সময়ে তাদের আয় কমেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমজীবীদের আয় কমেছে গড়ে ৩৭ শতাংশ।

গত মার্চের পর স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এবং আয়ে কী ধরণের প্রভাব পরেছে সে বিষয়ে একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, গত মার্চের পর পুরুষদের মধ্যে যারা কাজ হারিয়েছে তাদের মধ্যে গাড়িচালক ৬ শতাংশ, গার্মেন্টস কর্মী ৭ শতাংশ, পরিবহন শ্রমিক ১৩ শতাংশ, নির্মাণ শ্রমিক ১৩ শতাংশ, দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক ১৩ শতাংশ, দোকান কর্মচারি ৫ শতাংশ। এছাড়াও নিজস্ব খুচরা ব্যবসা করেন এমন ১৫ শতাংশ তাদের কাজ হারিয়েছেন। নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হারিয়েছেন গৃহকর্মীরা। নিম্ন আয়ের বেকার হয়ে পড়া নারীদের ৫৪ শতাংশই গৃহকর্মী বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তৈরি পোশাক শিল্পে ১৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে সাধারণ মানুষের ভোগ ব্যয় ১৩ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের বার্ষিক ভোগ ব্যয় কমবে ১০৭০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। শ্রমবাজারে উচ্চ মাত্রায় অনিশ্চয়তা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ তৈরি করে। এধরণের সমস্যা করোনাকালে সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জরিপকালে প্রতি ১০ জনের ৮ জন এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।