নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে তালামারা পুরাতন নির্বাচনি ক্যাম্প অফিস দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের চার জন আহত হয়। আহতরা হচ্ছেন—যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন (৩২), মিলন আকন্দ (৪৫), মেহেদী হাসান মিঠু (১৬) এবং বদিউল আলম শাহীন (৪০)। গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার করেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে মোহনগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পৌরশহরের মাইলোড়া খেলার মাঠের কোণায় তালামারা পুরাতন নির্বাচনি অফিসে উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক শহিদ ইকবালের লোক জাকির বসলে উপজেলা আওয়ামী সভাপতি অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান রতনের লোকের সঙ্গে তর্ক লেগে যায়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হলে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন রাসেল (৩২) বাম গালে আঘাত প্রাপ্ত হন। এর জের ধরে মাইলোড়া মালেক মিয়ার বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে সভাপতি লতিফুর রহমান রতনের লোকজন পৌরসভার সম্মুখের রাস্তায় এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ ইকবালের পক্ষের লোকজন বসুন্ধরা মোড়ে অবস্থান নিলে পৌর শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক শহিদ ইকবাল জানান, সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান রতনের লোকজন তার হোটেল ভাঙচুর ছাড়াও রাত ১১টার দিকে স্টেশন রোডের সাত-আটটি দোকান ভাঙচুর করে। এদিকে সভাপতি লতিফুর রহমান রতন বলেন, শহিদ ইকবালের লোকজনই হামলা ও ভাঙচুর করে। গতকাল সকাল থেকে প্রতিটি সড়কের মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি থমথমে। মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আহাদ খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, পুলিশ মোতায়েনের পর পরিবেশ এখন শান্ত।