অবশেষে এলপিজির দাম নির্ধারণে বিইআরসির ফর্মুলা

তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজির দাম নির্ধারণে ফর্মুলা তৈরি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সে অনুযায়ী, সারাদেশে এলপিজির অভিন্ন একটি মূল্য তালিকা হতে পারে । আর তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি মাসে কিংবা প্রতি তিন মাসে একবার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম হালনাগাদ করা হবে। বিশ্ববাজার এবং দেশীয় বাজারে আমদানি, উত্পাদন, বোতলজাতকরণ, পরিবহন, গ্রাহকের ক্রয় ক্ষমতা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য মুনাফা হার বিবেচনায় নিয়ে এ দাম নির্ধারণ করা হবে। এ ফর্মুলা ব্যবহার করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ করতে চায় রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিইআরসি।

গতকাল শনিবার বিকালে এক অনলাইন সভায় বিইআরসির পক্ষ থেকে এ ফর্মুলা তুলে ধরে মতামত আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি নীতিমালা প্রণয়ন শেষে এ মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিরা বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে যৌক্তিকতা যাচাই শেষে মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলছেন, মূল্য নির্ধারণের ফর্মুলাটিতে আরো কিছু সংযোজন-বিয়োজন দরকার। একইসঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে এটি বাস্তবায়ন করা হলে অনেক ভুল হতে পারে। আর বিইআরসি এ বিষয়ে সকল পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব মতামত দিতে অনুরোধ করেছে। এলপিজির দাম কীভাবে আরো কমিয়ে আনা সম্ভব সে বিষয়ে বিইআরসির পক্ষ থেকে কিছু সম্ভাব্য উদ্যোগের তথ্য অনলাইন সভায় জানানো হয়। এতে বলা হয় বাংলাদেশের এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় জাহাজে করে এলপিজি আনতে হবে। কোম্পানিগুলো এককভাবে না পারলে যৌথভাবেও এলপিজি আনতে পারে।

মূল প্রবন্ধে বিইআরসির উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের টন প্রতি পরিবহন ব্যয় ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ। এই ব্যয় কমানো গেলে দেশের এলপিজির দাম কমানো সম্ভব। মূল প্রবন্ধে বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের হলদিয়া বন্দরে টনপ্রতি এলপিজি আমদানি ব্যয় ৬০ ডলার অন্যদিকে বাংলাদেশে যা সর্বোচ্চ ১৩০ ডলার। মংলা বন্দরের হারবারিয়া এলাকায় ৩০ হাজার টন এলপিজির জাহাজ আনা সম্ভব। এটি করা সম্ভব হলেও দেশে এলপিজির পরিবহন ব্যয় টনপ্রতি ৮০ ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব।

ভারতের কলকাতায় এলপিজির দর কেজি প্রতি ৫০ টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই দাম সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা। ভারতে পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় বাংলাদেশে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ। এছাড়া ভারতে এলপিজির বিপণন ব্যয় কেজিতে ১৫ টাকা হলেও বাংলাদেশে তা ৩০ থেকে ৩২ টাকা। সঙ্গে ভ্যাট আছে পাঁচ ভাগ। এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, বেসরকারিখাতে কেউ যদি কোনো ব্যবসা করতে চায় তাহলে বিপিসিকে একটি মার্কেটিং ফি দিতে হয়। ৫ লাখ টাকা করে বিপিসিতে বছরে ফি দিতে হয়। আবার এখন বিইআরসি চিঠি দিয়ে বলছে তারা দাম ঠিক করতে চায়। যেহেতু দুই পক্ষই আমাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে তাই আমরা ঠিক জানি না বিইআরসি না বিপিসি—কে এ খাতের নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, দাম নির্ধারণ করতে গিয়ে বিইআরসি যে কমিটি করেছে সেখানে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আইন অনুযায়ী লাইসেন্সধারীরা আবেদন না করলে বিইআরসি মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। বিইআরসিতে কেউ আবেদন না করলে কীভাবে দাম নির্ধারণ করছে। বিইআরসির প্রবিধানমালা প্রস্তুতই হয়নি। বিষয়টি উচ্চআদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রবিধানমালাই নেই সে জন্য কোনোভাবে এটি আলোচনাই হতে পারে না। বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, কেউ না চাইলে আমরা দাম পরিবর্তন করতে পারি না। কিন্তু এখন আমরা দাম নির্ধারণ করছি। আইন-নিয়ম মেনেই তা করা হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ম তামিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক বদরুল ইমাম, সাংবাদিক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।