মোস্তফা রনি
মেধা সরকার। বয়স ১০ বছর। পড়াশোনা করছেন রাজধানীর একটি স্কুলের তৃৃতীয় শ্রেণিতে। এই বয়সেই নিজেকে জড়িয়েছে অনলাইন প্রতিযোগিতায়। সেই সঙ্গে জয় করেও নিয়েছে প্রথম পুরস্কার। করোনায় সবকিছু থেমে থাকলেও থেমে নেই তার চ্যালেঞ্জ নেওয়া। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘরে বসেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মেধা। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখছেন এবং যোগদান করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটসে। এর মধ্যে থেকে প্রতিটি সময়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা এক নতুন চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ-তরুণীদের কীভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিত এসব নিয়েই ফোনে কথা হয় মেধা সরকারের সঙ্গে।
মেধা সরকার বলেন, করোনায় যখন আমাদের স্কুল বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকেই আমি একা হয়ে যাই এবং বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনি আমি বাবার কাছে জানতে পারি অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা যায় এবং তার সহযোগিতায় নেমে পড়ি হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায়। আর সেই প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম পুরস্কার পাব কল্পনাই করতে পারিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ মানেই পড়ালেখার কার্যক্রম বন্ধ নয়, ঘরে বসেই পরিবার থেকেই গড়ে উঠুক সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম। এই উদ্দেশ্যে ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জে শুরু হয়। ঘরে বসেই ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জের দিকনির্দেশনা মেনে অনলাইনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার ২৩৭ জন প্রতিযোগী এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্য থেকে বাছাই করে পাঁচ জন স্কাউটস সদস্য ও পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মেধা ছাড়াও অন্যান্য বিজয়ী স্কাউট সদস্যরা হলেন—সামিহা রাইসা সাবিহ্, সাদিক আল রাফি, মুহিবা তায়্যিবা তোহা, সানজানা রহমান লিমা এবং স্কাউট সদস্য ছাড়া বিজয়ীরা হলেন—স্বর্ণা মাহমুদ, রাধা সেন, দিপ বিন্দু দাস, নাবিলা আলম, শাইনি নুসরাত।
প্রতিযোগিতায় বিষয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপকমিশনার (স্বাস্থ্য) ও ডিজাস্টার কো অর্ডিনেশন সেলের সমন্বয়ক মো. জামাল উদ্দিন শিকদার বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে ইউএনডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস, ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের সম্মিলিত উদ্যোগে অনলাইনে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদেরে প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে প্রতিটি সময় যেন সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া ছোট্ট মেধার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তার হয়ে আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। যারা টাকার অভাবে চিকিত্সা করাতে পারছে না সেসব মানুষকে সেবা দিতে চাই।