চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া শহরের অধিকাংশ সড়কগুলোতে খানাখন্দ ও সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পৌরসভার প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার বগুড়া পৌরসভায় ৩০টি প্রধান সড়কসহ পাড়া-মহল্লায় ৯৫০ কিলোমিটার সড়ক আছে। এর মধ্যে ২৬৬ কিলোমিটার সড়ক পিচঢালাই এবং অবশিষ্ট সড়ক সিসি, আরসিসি, ইট বিছানো এইচবি সড়ক। ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়কের সিংহভাগই বেহাল। পাকা সড়কের বেশির ভাগই এখন ক্ষতবিক্ষত, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পোহাচ্ছেন পৌরসভার প্রায় ৭ লাখ বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চেলোপাড়া-চন্দনবাইশা, কালীতলা-করোনেশন স্কুল সড়ক-ধরমপুর, জাহেদ মেটাল মোড়-নুরানি মোড়-নিশিন্দারা, কামারগাড়ি রেলগেট-জহুরুলনগর, জাহেদ মেটাল-জহুরুলনগর-বিটাক, বিটাক-শৈলালপাড়া, ধরমপুর-মাটিডালি, এলজিইডি-ফকির উদ্দিন স্কুল, সরকারি আজিজুল হক কলেজগেট-জামিলনগর, কামারগাড়ি-হাড্রিপট্রি-চামড়াগুদাম লেন, কারমাইকেল সড়ক, চক সূত্রাপুর-শেরেবাংলা হল, নুরানি মোড়-উপশহর, নামাজগড়-বাদুড়তলা, পার্ক রোড-কারমাইকেল, কৃষিখামার-সবুজবাগ, ঈদগাহ মাঠ-কারমাইকেল, সাতমাথা-ফুলতলা, সূত্রাপুর সড়ক, মফিজ পাগলার মোড়-জলেশ্বরীতলা, পিটিআই মোড়-বকশি বাজার, ডিসি বাংলো-বকশি বাজার, ডিসি বাংলো-বউবাজার, থানা মোড় চকযাদু ক্রস লেন, থানা মোড়-ফতেহ আলী বাজার, সাতমাথা-গালাপট্টি, গালাপট্টি-হোটেলপট্টি, জাহেদ মেটাল মোড় থেকে জহুরুলনগর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। জহুরুলনগরের একটি মেসের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলেন, এখানে কয়েকশত ছাত্রাবাস আছে। মেসে থেকে তারা সরকারি আজিজুল হক কলেজে পড়াশোনা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়ক বেহাল। একটু বৃষ্টি হলেই কাদাজলে একাকার হয়ে যায়। বিশেষ করে জহুরুলনগর থেকে কামারগাড়ি রেলগেট পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সড়কে রিকশা নিয়েও চলাচল করা যায় না। ফুলতলা-পেপসি সড়কটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বেহাল। এ সড়কে রিকশা দূরে থাক, হেঁটেও চলাচল করা যায় না। পেপসি প্ল্যান্টের আশপাশে বেশ কিছু শিল্পকারখানা আছে। বেহাল সড়কের কারণে এসব কারখানায় পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে ভোগান্তির মুখে পড়ে। ইটের টুকরা, রাবিশ ফেলে কোনো রকমে এ সড়কে চলাচল চলছে।
পথচারী শোয়েব আহমেদ বলেন, বগুড়া শহরের দিন দিন অনেক উন্নতি হচ্ছে। দালানকোঠা বাড়ছে। আধুনিক বিপণিবিতান হচ্ছে। শহরের চেহারা পালটে যাচ্ছে। কিন্তু প্রায় সব সড়কই বেহাল। আবু জাকারিয়া নামের আরেক পথচারী বলেন, শহরের রাস্তাঘাট এমনিতেই খারাপ। তার ওপর সাতমাথাকেন্দ্রিক সব সড়কের ফুটপাত ভাড়া দিয়ে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় অর্থাভাবে পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের সংস্কার করা যাচ্ছে না। তারা চেষ্টা করছেন পৌরসভার আয় দিয়ে কিছু কিছু রাস্তার সংস্কার কাজ করার।