ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
সরকারি সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে ধান-চালের মূল্য বেশি থাকায় বোরো সংগ্রহ অভিযানের সময় ১৫ দিন বাড়িয়ে দিলেও খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় বোরো সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। এবার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৬ টাকা এবং চালের ৩৬ টাকা ধার্য করা হয়। এপ্রিল মাসে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরুর সময় থেকে দাম বেশি ছিল। প্রথম দিকে চাষিরা কিছু ধান সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিক্রি করলেও পরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। খুলনা বিভাগীয় খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৬ হাজার ৮৪৫ টন। সংগ্রহ হয়েছে ২৩ হাজার ৭৭৫ টন। নতুন বোরো ধান ওঠার পর দাম ছিল প্রতি মণ ৯০০ টাকার ওপরে। কয়েক দিন পর দাম বেড়ে প্রতি মণ ১ হাজারের ওপরে যায়। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিক্রি করলে চাষিরা পেত ১ হাজার ৪০ টাকা। তাই তারা ধান নিয়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে যায়নি। এদিকে এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯২৮ টন। সংগ্রহ হয়েছে ৯২ হাজার ৬১২ টন। সিদ্ধ চাল প্রতি কেজির সংগ্রহ মূল্য ধার্য করা হয়েছিল ৩৬ এবং আতপ চাল ৩৫ টাকা। কিন্তু খোলাবাজারে দাম বেশি ছিল। ঝিনাইদহ জেলা চালকল মালিক সমিতির সম্পাদক বিকাশ বিশ্বাস জানান, সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করে কেজিপ্রতি চার থেকে আট টাকা করে লোকসান হয়েছে। তার নিজের লোকসান হয়েছে ৫ লাখ টাকার বেশি। অন্য জেলার মিলমালিকরাও লোকসান দিয়ে সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করেছে। খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত খাদ্যনিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবহান বলেন, ২ হাজার ৪০০ চালকলের মধ্যে ২ হাজার ৩১০টি মিল সিদ্ধ চাল সরবরাহের চুক্তি করে। ১১৪টি চালকল আতপ চাল সরবরাহের চুক্তি করে। অনেক মিল চুক্তিমতো চাল সরবরাহ করেনি।