লোকসানের কারণে বরিশাল বিআরটিসির ২০ চালক বদলি

লোকসানের মুখে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর ২০ চালককে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি বদলি হওয়া এসব চালকের ১২ থেকে ১৪ মাসের বকেয়া থাকায় তারা বাসার ভাড়া কিংবা ধারদেনা মিটিয়ে যেতে পারছেন না। তবে বদলি চালকদের অভিযোগ, তারা ঊর্ধ্বতনদের কথামতো নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানোর কারণেই তাদের বদলি করা হয়েছে। কেননা বিগত ১৫ থেকে ২০ বছর যাবত্ যেসব চালক এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রশ্রয় দিয়ে আসছে, তাদের বদলি না করে যারা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তাদেরই বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন চালকরা। আবেদনে তারা আরো উল্লেখ করেন ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান বরিশাল ডিপো পরিদর্শনকালে বলেছিলেন, লাভজনক রুটে (বরিশাল-আমুয়া) পুনরায় বিআরটিসির নিজস্ব বাস পরিচালনা করা হবে। কিন্তু তা আর পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। দুর্নীতিবাজরা মেরামত ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের অবৈধ ভাউচার দেখিয়ে ৮২ লাখ টাকা আত্মসাত্ করতে চাইলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হলে ‘লংলিজ পার্টি’ ও বহিরাগত মিরাজ শেখ নামে এক ব্যক্তি ও সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপোতে কর্মরতরা জানান, বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর অধীনে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার সড়কপথে চলাচলকারী বাসে কমপক্ষে ৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়ে থাকে। অতীতে প্রতি মাসে ডিপোটি যাত্রীভাড়া বাবদ দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করলেও এখন তা তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে। বিভিন্ন রুটের বাসগুলো লিজ দেওয়ায়, পুরোনো গাড়ির অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়, অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতে এ বাস ডিপোটির লাভের পথ রুদ্ধ হয়েছে। ফলে একসময়ের লাভজনক বরিশাল বাস ডিপোটি এখন লোকসানের মুখে পড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। বিআরটিসির বরিশাল ডিপোতে মোট ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত ৯৩ জন চালক ও ১৯ জন কারিগর থাকলেও বাস আছে মাত্র ৩৬টি। একাধিক চালক ও কারিগর জানান, তাদের ১২ মাস থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ডিপো ম্যানেজারদের অদক্ষতার ফলে এ দুরবস্থায় পড়তে হয়েছে তাদের। তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ডিপোর অধীন বাস ও রুট বৃদ্ধি, কর্মকর্তাদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রদবদল, গাড়ি মেরামত খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনয়ন ও লিজ পদ্ধতি বাতিল করা না হলে এক সময়ে লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাবে এ ডিপোটি।

বরিশাল ডিপো অফিস সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের ১৬টি রুটের জন্য ৩৬টি বাস বর্তমানে চালু রয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ ডিপোতে যোগদান করেন ডিজিএম (পিঅ্যান্ডএস) দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট প্রধান মো. মনিরুজ্জামান বাবু। তিনি রবিবার ইত্তেফাককে জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে তিনি এ ডিপোকে লাভজনক করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পূর্বে ডিপোতে ৩০টি বাস থাকলেও ছয়টি বাস যুক্ত হওয়ায় এবং মনিটরিং বৃদ্ধি করায় আয় বাড়ছে। তিনি জানান, গত পাঁচ দিনেই আয় যে গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে মাস শেষে ডিপোতে কর্মরতদের বেতনভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।