জাফলংয়ে দেশের প্রথম ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ

সিলেটের জাফলংয়ে দেশের প্রথম ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপন করা হবে। এর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের বিষয়ে সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত শিলাস্তর, চুনাপাথর সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য ২৫ দশমিক ৫৯ একর ভূমিকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ ভূমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। বিএমডি গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেছে। বিএমডির চিঠিতে ঐ এলাকা থেকে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব ইত্তেফাককে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি চিঠি পেয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।

সূত্র মতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে উচ্চআদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাফলংকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জাফলংকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাফলংয়ের ২২ দশমিক ৫৯ একর জায়গাকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে ঐ এলাকায় বালি-পাথর তোলা বন্ধ থাকে।

অন্যদিকে ‘মেসার্স জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশন’ নামক প্রতিষ্ঠান ঐ সংরক্ষিত এলাকা ১৯৭২ সালে অধিগ্রহণ করা—এমন দাবি করে উচ্চআদালতের আদেশে পাথর তোলার প্রস্তুতি শুরু করে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। সেখানে তারা পাথর উত্তোলনের একটি সাইনবোর্ডও টানিয়েছে।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর, বিএমডির মহাপরিচালক মো. জাফর উল্লাহ এক চিঠির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলেছেন, জাফলং ইসিএভুক্ত এলাকা ছাড়াও ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত। তাই ঐ এলাকায় একটি ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপন করা হবে এবং মেসার্স জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনসহ আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐ স্থানে পাথর উত্তোলন থেকে বিরত থাকতে হবে। তাছাড়া জাফলংয়ের সোনাটিলাসহ আশপাশের এলাকায় পাথর উত্তোলন করা হলে বিজিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাদুঘর নির্মাণে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএমডি সকল প্রস্তুতিও নিয়েছে।

জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা বিএমডির চিঠির বিষয়ে কিছু জানেন না। ঐ কর্মকর্তা বলেন, আমরা উচ্চআদালতের নির্দেশনায় জাফলংয়ে অধিগ্রহণ করা জায়গায় অবস্থান নিয়েছি। সরকারকে আমরা টাকা দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করেছি।