গানে গানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করলেন শিল্পীরা। ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর রৌদ্র ঝরে/চিরকাল, গান হয়ে/নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, যাঁর নামের ওপর/কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া...। গত ১৭ মার্চ ছিল স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির জন্মশতবার্ষিকী। শততম জন্মবর্ষে অবিসংবাদিত নেতাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে নেওয়া হয়েছিল নানা আয়োজন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে থমকে যায় সেসব আনুষ্ঠানিকতা। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রবিবার সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংগীতাসরের মাধ্যমে উদ্্যাপিত হলো মুজিববর্ষ। গান ও আলাপচারিতায় সাজানো অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু’।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গানগুলো পরিবেশন করেন শিল্পী খায়রুল ওয়াসি, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও পাগল তারা বাউল। আলোচনায় অংশ নেন নাট্যজন ম হামিদ।
খায়রুল ওয়াসির গানের সুরে সংগীতায়োজনের সূচনা হয়। শোষকের বিরুদ্ধে অব্যাহত মুক্তি সংগ্রামের বারতায় গেয়ে শোনান প্রেরণাদায়ী সেই গান—মুজিব বাইয়া যাও রে/নির্যাতিত দেশের মাঝে/জনগণের নাও রে, মুজিব বাইয়া যাও রে...। এছাড়াও এই শিল্পী পরিবেশন করেন ‘তুমি নাও ভাসাইলা’, ‘তোমার স্মরণে গাইতে এসে’ ও ‘গোপালগঞ্জের টুঙ্গী পাড়ায় জন্ম’ শীর্ষক সংগীত।
পরিবেশনার শুরুতে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের গান গেয়ে শোনান বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি গেয়ে শোনান ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি’। এরপর গেয়ে শোনান ‘বাংলার হিন্দু বাংলার বৌদ্ধ বাংলার খ্রিষ্টান/আমরা সবাই বাঙালি’। এছাড়াও এই শিল্পী গেয়ে শোনান ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ গান দুটি।
স্বরচিত বাণী ও সুরের সম্মিলনে সাজানো ছিল পাগল তারা বাউলের পরিবেশনা। গেয়ে শোনান ‘দেশরত্ন শেখ মুজিবুর কোথায়’, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’, ‘তোমার কথা মনে হইলে’ শীর্ষক সংগীত।
সব মিলিয়ে ১১টি গানের সুরে গাঁথা ছিল সংগীতানুষ্ঠানটি। এটি সঞ্চালনা করেন শিল্পী মাহমুদ সেলিম।