বেসিস-ব্র্যাক ব্যাংক আর্থিক সহায়তা ‘দিগন্ত’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর উদ্যোগে অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধন হলো বেসিস-ব্র্যাক ব্যাংক আর্থিক সহায়তা-‘দিগন্ত’। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর আহমেদ জামাল এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সেলিম আর এফ হুসাইন।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বেসিসের সহ-সভাপতি (প্রশাসন) শোয়েব আহমেদ মাসুদ। দিগন্ত প্যাকেজ সম্পর্কে আলোকপাত করেন ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আবদুল মোমেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বেসিস-ব্র্যাক ব্যাংকের ‘দিগন্ত ঋণ সুবিধা’ বাংলাদেশের আইসিটি খাতের ব্যবসায়িদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠে নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা গেলে, দেশের আইটি কোম্পানিগুলোর স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে তা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশিয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও পর্যয়ক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন- অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠন ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো  বেসিস-ব্রাক ব্যাংকের এই উদ্যোগ অনুসরণ করতে পারে। এসএমই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার জামানত না নিয়ে বরং স্ট্রাকচারড অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে অধিক হারে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিং এর জন্য নামমাত্র সুদে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা যাতে এই বিশেষ ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারে সেজন্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সম্পর্কিত নির্দেশনা মেনে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।