শান্তির সুফল পৌঁছে যাক প্রতিটি মানুষের জীবনে

ফজলে রাব্বি ফরহাদ

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার (যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই স্লোগানে) লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত নম্ব্বর ৩৬/৩৭ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্ব্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়া দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৫৫/২৮২ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে ২০০২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সারা বিশ্বে শান্তি দিবস আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হলেও কতটুকু শান্তি আজ বিশ্বে বিদ্যমান! আজ মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। চীনের উইঘুর মুসলিম সমাজের ওপর অবিরত নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছে।  লম্ব্বা সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে সিরিয়াতে। খুব একটা সুখে নেই আজ ইরাক, আফগানিস্তান আর ফিলিস্তিনের মানুষ। আমেরিকার সহায়তায় ফিলিস্তিনের জনগণের নিজ ভূমিকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরাইল। এত অশান্তির মধ্যে শান্তির নীড় খুঁজে বেড়াচ্ছে আজ বিশ্বের মানুষ।

আজ শাসকদের হূদয় থেকে হারিয়ে গেছে মমত্মবোধ আর ভালোবাসা। যার কারণে ছোট্ট শিশু কিংবা গর্ভবতী মহিলাও তাদের বোমার আঘাত থেকে রেহাই পায় না। তাদের আর্তচিত্কারে শাসকদের মন গলে না। সেজন্য বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে আমাদের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের হূদয়ে মমত্মবোধ আর ভালোবাসার জন্ম দিতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে বিশ্ব শান্তি দিবসের উদ্দেশ্য। 

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের জন্য সুখবর দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি)। প্রতি বছর তারা বিশ্ব শান্তি সূচক প্রকাশ করে থাকে। বিশ্ব শান্তি সূচক-২০২০-এ দেখা যায়, বাংলাদেশ পূর্বের অবস্থান থেকে এ বছর চার ধাপ এগিয়েছে। ১০১তম অবস্থান থেকে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। সর্বশেষ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করছে বাংলাদেশ। সামগ্রিক স্কোরে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৩ শতাংশ উন্নতি করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। সূচক নির্ধারণের প্রতিটি ডোমেইনে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সুরক্ষা ও নিরাপত্তায়। আর গত বছরে বিরোধী দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডও কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেশের গার্মেন্টস শিল্পের কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়েছে, যা সূচক নির্ধারণে বাংলাদেশের অবস্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। 

বিশ্ব শান্তি দিবসে এসে আজ বিশ্ববাসীর কামনা এটাই যে, সব রকমের কলুষতা আর শোষণের বাণী দূর হোক পৃথিবীর বুক থেকে এবং শান্তি, সুখ আর সমৃদ্ধির বাণী ছড়িয়ে যাক পৃথিবীর প্রতিটি কোণে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়