রাফাত রহমান
অ্যালবাম তৈরির জন্য খোঁজা হচ্ছে একটি ব্যান্ডকে। তাদের অ্যালবামগুলো এর আগে বেশ প্রশংসিত হলেও নতুন ব্যান্ডদল হিসেবেই তাদের ওপর আস্থা রেখে অ্যালবাম তৈরির জন্য চুক্তি করলো একটি রেকর্ডিং কোম্পানি। সেই হিসেবে টাকাও প্রদান করলো দলটিকে। এরপর আর দেখা নেই তাদের। এমনকি পুলিশও তাদের খুঁজে পাচ্ছে না! সবাইকে অবাক করা এমনই একটি ব্যান্ডদলের নাম পিঙ্ক ফ্লয়েড। তাদের জীবনের অন্যতম সেরা অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর আগে এমন পাগলামি করেছিলেন তারা। বর্তমান বিশ্বে এক নামে পরিচিত ৬০-এর দশকের এই ব্যান্ডদলটিকে নিয়ে এবার লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট জাদুঘরে আগামী ১৩ মে থেকে শুরু হবে ‘দ্য পিঙ্ক ফ্লয়েড এক্সিবিশন:দেয়ার মর্টাল রিমেইন’।
প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য পাইপার অ্যাট দ্য গেটস অব ডন’ প্রকাশের অর্ধশতক পূর্তি উপলক্ষে ব্যান্ডটিকে নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এখানে স্থান পাচ্ছে ব্যান্ডটির ব্যবহূত ৩৫০টির বেশি উপকরণ। এরমধ্যে তাদের বাদ্যযন্ত্র থেকে শুরু করে রয়েছে ব্যান্ড সদস্যদের নিজ হাতে লেখা গানের কথার সংরক্ষিত কপি, তাদের ব্যবহূত বিভিন্ন উপকরণ, তাদের আঁকা বেশকিছু ছবিসহ আরো অনেককিছু। এছাড়া সেখানে তাদের স্টুডিও ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্থান পাচ্ছে ব্যান্ডটির সঙ্গে জড়িত আরো অনেক স্মৃতি। গত ৪০ বছর ধরে ভক্ত ও তাদের সঙ্গে থাকা মানুষগুলো অল্প অল্প করে এ সব সংরক্ষণ করেছেন।
এছাড়াও এই প্রদর্শনীতে ব্যান্ডটির ৬০ ও ৭০ দশকের বেশকিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হবে। সেইসঙ্গে থাকবে ব্যান্ড সদস্যদের নিয়ে অ্যানিমেশন ও অন্যান্য ছবি।
এই প্রদর্শনীতে দর্শকরা প্রবেশ করবেন পিঙ্ক ফ্লয়েডের ব্যবহূত ভ্যানের রেপ্লিকার মধ্য দিয়ে। এই ভ্যান তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ৬০ দশকের পিঙ্ক ফ্লয়েডের কাছে। এছাড়া ৬০-এর দশকে লন্ডনে এই ব্যান্ড সদস্যরা দীর্ঘসময় যে বাড়িটিতে কাটিয়েছেন তারও একটি রেপ্লিকা থাকছে প্রদর্শনীতে।
১৯৬৩ সালে লন্ডন পলিটেকনিকে দেখা হয় রজার ওয়াটার্স, নিক ম্যাসন ও রিচার্ড রাইটের। এ সময় তারা ছিলেন স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্র। পরবর্তীতে এই ব্যান্ডে যোগ দেন সিড ব্যারেট। ব্যান্ডটির নাম পিঙ্ক ফ্লয়েড দিয়েছিলেন লিড ভোকাল সিড ব্যারেট। দুই বিখ্যাত গিটারিস্ট পিংক অ্যান্ডারসন আর ফ্লয়েড কাউন্সিলের নাম থেকেই এই ‘পিঙ্ক ফ্লয়েড’ নামকরণ করা হয়। ব্যান্ডদলটি প্রথম সিঙ্গেল ট্র্যাক ‘আর্নল্ড লেন’ রেকর্ড করার পর সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান ইএমআইয়ের সঙ্গে গান রেকর্ডের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ১৯৬৭ সালে। লন্ডনের হাইড পার্কে ব্যান্ডটির প্রথম লাইভ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালের ২৯ জুন।
পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘দ্য ডার্ক সাইড অব দ্য মুন’ অ্যালবামটি সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল অ্যালবামের মধ্যে তৃতীয়। বিলবোর্ডের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে চলা অ্যালবাম, আর চলে প্রায় ৮০০ সপ্তাহ। অন্যদিকে, বিলবোর্ডের সেরা চালু ১০০ গানের তালিকায় একবারই শ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন তারা ১৯৭৯ সালে। গানটি ছিল ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’।
মহাকাশে বাজানো প্রথম রক রেকর্ড ছিল পিঙ্ক ফ্লয়েডের ১৯৮৮ সালের লাইভ অ্যালবাম ‘ডেলিকেট সাউন্ড অফ থান্ডার’। ‘সয়ুজ টিএম-৭’ মিশনে রাশিয়ান মহাকাশচারীরা এমআইআর স্পেশ স্টেশনে যাওয়ার সময়ে এই অ্যালবামটি নিয়ে গিয়েছিলেন।