আসামি মো. আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে এক রাউন্ড গুলিসহ ওয়ান শুটার গান। এই মামলায় নিম্ন আদালত আসামিকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ১৭ বছরের সাজা দেন। কিন্তু জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিম্ন আদালতের ঐ রায় পরিবর্তন করে সেখানে অস্ত্রের পরিবর্তে ‘চাইনিজ কুড়াল’ উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই জাল নথি দিয়ে হাইকোর্ট থেকে হাসিল করা হয় জামিন। পরে ঐ আসামির আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমান জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপরই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জামিন আদেশ রিকল করেন। আদালত আসামির আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, জামিন জালিয়াতির ঘটনায় কেন আইনজীবী হিসেবে বারবার আপনার নাম উঠে আসছে। এ পর্যায়ে ঐ আইনজীবী বলেন, আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমান এই কোর্টে একটি আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, একটি জালিয়াত চক্র মিথ্যা তথ্য দিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ আদালত থেকে আবদুস সাত্তারের জামিন আদেশ নিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার। পরে হাইকোর্ট আবেদনটির সত্যতা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেবে হাইকোর্ট।
২০১৮ সালের ২ মে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রেল বাজারের নিকট অভিযান চালিয়ে গুলিসহ ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়েরকৃত অস্ত্র মামলায় সাত্তারকে ১৭ বছরের সাজা দেয় আদালত। কিন্তু সাজার রায়ের নথি জালিয়াতি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন হাসিল করে আসামি। রবিবার আসামির আইনজীবী জানান, তার ক্লার্ক সোহেল রানার মাধ্যমে জালিয়াত চক্রটি মামলা নিয়ে তার কাছে আসে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঐ জামিন আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।