স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রীর চারটি বাড়ি ও তিনটি প্লটের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাড়িচালক মালেকসহ স্বাস্থ্য খাতের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্পদ বিবরণী প্রদানের নোটিশ দেয় দুদক। তারা যদি সম্পদের হিসাব দিতে না পারেন তাহলে যথাযথভাবে মামলা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক সচিব সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সাল থেকে মালেকসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। এখন পর্যন্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় সাতটি প্লট এবং এসব প্লটে চারটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মালেক ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান দুদক সচিব।
দুদক সূত্র জানায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য খাতের ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যে ২০ জনের কাছে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি এবং তার স্ত্রী রিফাত আক্তার, অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভুঁইয়া এবং তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার, অধিদপ্তরের গাড়ি চালক মো. আব্দুল মালেক এবং তার স্ত্রী নার্গিস বেগম, গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান এবং তার দুই স্ত্রী বিলকিস রহমান ও মোসাম্মত রেহেনা আক্তার (ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের স্টাফ নার্স), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. ইমদাদুল হক এবং তার স্ত্রী মোছাম্মত উম্মে রুমান ফেন্সী, ঢাকার জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহমুদুজ্জামান এবং তার স্ত্রী মোছাম্মত সাবিনা ইয়াছমিন, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের অফিস সহকারী কামরুল হাসান এবং তার স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত ১৫ সেপ্টেম্বরের এসব নোটিশ ১৬ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছে।