হাইকোর্টে খালাস পেলেন আট আসামি

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের অফিস সহকারী গোলাম সামসুল হায়দার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি কৃৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ রায় দেয়। তবে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে এজিবি কলোনিতে শামসুল হায়দারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ভুয়া বিল তৈরি করে ১ কোটি ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা জেনে যাওয়ায় আসামিরা তাকে হত্যা করে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই আবুল কালাম আজাদ মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. আব্দুল লতিফ, আনোয়ার হোসেন সরকার, মো. কাজল মিয়া, মো. হাফিজুল হোসেন, বাবুল ওরফে তপন চক্রবর্তী ও মো. ওয়াসিম। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় রাজন মিয়া ও শামসুল আলমকে। এই রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিরা। আদালতে আসামি পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান, এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়।

পরে ফজলুল হক খান ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যা মামলার কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী নেই। নিম্ন আদালত দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় ষড়যন্ত্রের বিষয়টি যুক্ত করে ৩০২ ধারায় আসামিদের ফাঁসি দেয়। কিন্তু হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আদালত সব আসামিকে খালাস দিয়েছে।