কারাগারের নাম শুনলেই তো গা ছমছমে ওঠে! তাইতো বন্দিশালার বাইরেই থাকতে চায় সবাই। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ানরা কারাগারকেই বসবাসের সঠিক জায়গা মনে করছেন। তাদের মতে, প্রাত্যহিক জীবনের ঝঞ্ঝাট থেকে বাঁচতে কারাগারে গিয়ে থাকাই ভালো!
পার্ক হাই-রি নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর বলেন, ‘এই কারাগার আমাকে মুক্তির স্বাদ দেয়।’ চাকরিজীবী পার্ক হাই-রি মাত্র ২৪ ঘণ্টা এই নকল জেলে থাকার জন্য ৯০ ডলার ব্যয় করেন।
২০১৩ সাল থেকে উত্তরপূর্বের হংচিওন এলাকায় ‘প্রিজন ইনসাইড মি (আমার ভেতরের কারাগার)’ নামের এই বন্দিশালায় প্রায় ২ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় বন্দিত্ব গ্রহণ করেছেন। এদের অনেকেই পরিশ্রান্ত চাকরিজীবী ও ছাত্রছাত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার চরম ব্যস্তজীবন থেকে রেহাই পেতে তারা এই কারাগারে গিয়ে আশ্রয় নেন। ৫ স্কয়ার মিটারের কারাগার কক্ষে বসে পার্ক বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। আমার যা কাজ জমে রয়েছে তাতে এখানে থাকার কথা নয় আমার। কিন্তু আমি একটু দম নিয়ে নিজের দিকে তাকাতে চাইছি যেন আরো ভালোভাবে বেঁচে থাকা যায়।’
কারাগারের নিয়ম খুব কঠিন। এখানে অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলা যায় না। মোবাইল ফোন বা ঘড়ি ব্যবহার করা যায় না। বন্দিরা নীল ইউনিফর্ম পরে থাকেন। যোগ ব্যায়াম করার একটা মাদুর ও লেখার খাতা পান। ঘুমান মেঝেতে। কারাগার কক্ষেই একটা ছোট টয়লেট আছে, কিন্তু কোনো আয়না নেই। ডিনারের মেন্যুতে থাকে সিদ্ধ মিষ্টি আলু এবং ব্যানানা শেক। সকালের খাবার হিসেবে থাকে জাউ ভাত।