তরুণরা স্বপ্ন দেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের

দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ হবে, প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাবে তাদের অধিকার— এমন প্রত্যাশাই করে দেশের উঠতি বয়সি তরুণরা। তারা ভাবে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়া তাদের আশেপাশের লোকজনের একদিন উপলব্ধি হবে, তারা ফিরে আসবে সঠিক পথে। এমন স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ইয়েস গ্রুপ আয়োজিত করোনাকালে দুর্নীতি ও প্রতিরোধের গল্প শীর্ষক গল্প লিখেছিল তারা। ‘দুর্নীতিবিরোধী গল্প লেখা’ শীর্ষক প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান লাভ করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নতুন নাইয়ুম সোমা। দ্বিতীয় হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও তৃতীয় হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাবরিনা মনসুর।

প্রতিবাদের শুরুটা হোক পরিবার থেকেই

সোমার গল্পের নায়ক আদিব। আদিবের বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান পাওয়া ত্রাণ সামগ্রীতে দুর্নীতির হালচিত্র সে দেখেছিল। কিন্তু ছেলের জেদের কাছে হেরে যায় দুর্নীতিগ্রস্ত পিতা। প্রথমে নিজস্ব স্টোররুমে ত্রাণ চুরি করে রাখলেও পরে ছেলের জেদের কাছে হার মানতে হয় বাবাকে। জন্মদিনে ত্রাণের সামগ্রী চুরি করবে বিষয়টি জানতে পেরে তার জন্মদিনকে মনে হলো ‘তার এই জন্মদিনটা হবে মন খারাপের জন্মদিন’। গরিবের অধিকার কেড়ে নিয়ে বাবার দেওয়া সারপ্রাইজ গিফটও নেয়নি আদিব। পরের দিন সকালে অনুশোচনাগ্রস্ত পিতা যখন ত্রাণ বিতরণ করছিল—তখন তার মনে হয়েছে এটাই ছিল তার ‘সারপ্রাইজ গিফট’।

উপলব্ধি

সারাজীবন সার্জিক্যাল পণ্যে দুর্নীতি করে এলেও করিম তরফদারের নিজের একমাত্র মেয়ে যখন মুমুর্ষ অবস্থায় তখন তার সঙ্গে দুর্নীতি করেছে হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স আর মালিক। মেয়ে মারা যাওয়ার দুদিন পরও টাকার জন্য আইসিউতে রেখে দেওয়ার পর তার উপলব্ধি হয়েছে ‘এতদিন কয়টা টাকা বেশী লাভের জন্য ভেজাল পণ্য হাসপাতালে হাসপাতালে সাপ্লাই দিয়ে রোগীদের ঠকানোর পথ করত করিম। আজ তাকেই কি না ঠকানো হলো! কী হবে এত টাকা দিয়ে। যে টাকা দিয়ে কলিজার টুকরা মেয়েটাকেই বাঁচানো গেল না! ভাবতে ভাবতে এক ঝাঁপটে উঠে দাঁড়াল সে। নাহ আর না। এভাবে আর নাহ। নিজেই কল দেয় ৯৯৯... ‘ক্রিং ক্রিং ক্রিং, হ্যালো, একজন অসাধু ব্যবসায়ী করিম তরফদার বলছি। আমাকে গ্রেপ্তার করুন। আমার সঙ্গে আর যারা আছে তাদের নামও বলছি শুনুন....।’ গল্পের শেষ হয় এভাবেই।

আহা করোনা

দুর্নীতি নয়, আর্থিক পরিস্থিতির শিকার মেডিকেলের শিক্ষার্থী শ্যামার। কিন্তু এর পেছনে দায়ী ছিল সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা দুর্নীতি। করোনার ভয়াল থাবায় আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় শ্যামার পরিবারের। চাচার চিকিত্সা করাতে সক্ষম হয়নি, বাবার ক্ষতও বেড়েছিল খুব। সরকার থেকে দেওয়া আড়াই হাজার টাকাও পায়নি তার পরিবার। চাচা ভুয়া করোনা রিপোর্ট নিয়ে গিয়েছিল বিদেশে। কোনো হিসেব মিলে না তার। কিন্তু গল্পের শেষ হয় সুখের সব খবর দিয়ে। ‘শ্যামার বন্ধুরা টাকা তুলে তাকে একটা স্মার্টফোন কিনে দিয়েছে। ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ডাক্তারদের একটা সংগঠন। বস্তির এক গর্ভবতী মহিলার জন্য রক্ত দরকার ছিল, করোনার মধ্যেও মেডিকেলের ক্লাব থেকে জোগাড় করে দিছে। অনেকদিন পর ফ্রি জিবি অফার পেয়ে ফেসবুকে ঢুকে দেখল বৃদ্ধ লোকটাকে কান ধরানো মহিলার শাস্তি হয়েছে; জাল করোনা সার্টিফিকেট দেওয়া মানুষগুলোও গ্রেফতার হয়েছে। টুং করে ফেসবুকের নোটিফিকেশনের আওয়াজে দেখল কে যেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে ডোনেশনের একটা চ্যালেঞ্জে ট্যাগ করেছে, শ্যামাও সাধ্যমতো ডোনেট করে দিয়েছে। এত ঝামেলার মধ্যেও এই মানুষগুলার জন্যই যে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা হয়।’