মসজিদে বিস্ফোরণ মারা গেলেন সেই সিফাত

কলেজে যাওয়া হলো না শাহদাত হোসেন সিফাতের। এসএসসি পাশের পর চলছিল কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হন সিফাত। নিজে দগ্ধ হয়েও অন্যদের উদ্ধারে সহযোগিতা করা সেই সিফাতও হার মানলেন মৃত্যুর কাছে। চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হলো। এ ঘটনায় চিকিত্সাধীন আমজাদ (৩৭) ও কেনানের (২৪) অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকরা।

বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, সিফাত আইসিইউতে চিকিত্সাধীন ছিলেন। তার শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ ছিল। পুড়ে গিয়েছিল শ্বাসনালিও। মৃতের বড় ভাই দিপু জানান, বিস্ফোরণের পর তার শরীরে আগুন লেগে গেলে ভাঙা গ্লাসের ভেতর দিয়ে লাফ দিয়ে বাইরে বের হন সিফাত। তখন তার হাত-পা কেটে যায় ভাঙা গ্লাসে।               এরপর সিফাত দৌড়ে পাশের একটি মাঠে গিয়ে ‘বাঁচান বাঁচান, মসজিদে আগুন লেগেছে’ বলে চিত্কার করে সবাইকে ডাকেন। নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বাসিন্দা ডেকোরেটর কর্মচারী মো. স্বপনের তিন সন্তানের মধ্যে মেজো ছিলেন সিফাত। সবুজবাগ মডেল একাডেমি থেকে এবার এসএসসি পাশ করেন তিনি। এর পরই ভর্তি প্রক্রিয়া চলছিল নারায়ণগঞ্জ বন্দরের কদম রসূল কলেজে।

সিফাতের বাবা স্বপন বলেন, আগুন লাগার পরও সিফাত সেখানেই ছিল। মানুষকে ডাকাডাকি করেছে মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের করার জন্য। নিজেও মুসল্লিদের ধরে ধরে বের করেছেন। নিজের দিকে তার কোনো খেয়ালই ছিল না। তার পিঠ, হাত, পা ও মুখের একপাশ পুড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিফাত নিজেই বাঁচতে পারল না।