ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ চলছে

বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার জ্বালানি তেলের সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ অনেক কম। এ অবস্থায় সরকার এই রিফাইনারি থেকে অন্তত ৭০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি উত্পাদনের টার্গেট নেয়। সেই লক্ষ্যে দ্বিতীয় উইনিট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তাবিত নকশাসহ এর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি হয়ে যায়। সেটি সরকারের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর লক্ষ্যে এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। একটি সূত্র মতে, ডিপিপি এখনো মন্ত্রণালয়ে যায়নি।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকতারুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট শিগগিরই নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে সরকার মনে করছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ঠিকাদারী সংস্থা নিয়োগের কথাবার্তাও চলছে। আলাপ চলছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ‘টেকনিক ট্রান্স’-এর সঙ্গে। এই সংস্থাটি দ্বিতীয় ইউনিটের নকশা সম্পন্ন করেছে। এছাড়া বর্তমানে চালু প্রথম ইউনিটটিও এই সংস্থা নির্মাণ করেছিল। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, চলতি বছরেই দ্বিতীয় ইউনিটটির কাজ শুরু করতে পারব। ডিপিপি মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য যাওয়ার কথা। এছাড়া প্রকল্পটির জন্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনেরও একটি প্রক্রিয়া আছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। অর্থসংস্থানেও কোনো সমস্যা নেই।

ইআরএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটটির নির্মাণ সম্পন্ন হতে চার বছর সময় লাগবে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটটি উত্পাদন করছে বছরে ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি। দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু হলে সেটি বছরে উত্পাদন করবে ৩০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি। আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল থেকে এসব জ্বালানি উত্পাদিত হলেও বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি কমে আসবে। সে সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে ৬০ শতাংশ জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষমতা অর্জন করবে।

বিপিসির সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের নকশা সম্পন্ন করা হয় “ইউরো-৫ স্ট্যান্ডার্ড” অনুসারে। দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্মাণে চার বছর সময় লাগবে। এতে বসানো হবে ১৭টি প্ল্যান্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারি উত্পাদনে যায়। ১৯৯৫ সালে কনভারশন প্ল্যান্ট বসিয়ে প্রথম আপগ্রেডিং সম্পাদন করা হয়। সর্বশেষ আপগ্রেডিং সম্পন্ন হয় ২০০৯ সালে ‘অটোট্যাংক গেজিং’ বসিয়ে।