মঙ্গলবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা চীনের অন্তত ১৫০টি ফেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এ অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মার্কিন নির্বাচনকেন্দ্রীক পোস্ট দেওয়া হতো বলেও জানায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
ফেসবুক বলছে, এটি খুব স্বল্প পরিসরের অপারেশন ছিল। তবে এই প্রথম সংস্থাটি মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলে চীনের প্রতি এমন অপারেশন সম্পর্কে বিবরণ প্রকাশ করেছে। ফেসবুকের সুরক্ষা ও নীতি বিষয়ক প্রধান নাথানিয়েল গ্লিশার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি পোস্টের মাধ্যমে লিখেছেন, অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ও বিপক্ষে উভয়ই পোস্ট করে ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী সংস্থা গ্রাফিকা গত মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘২০১৯-২০২০ সালে অ্যাকাউন্টগুলো চালু করা হয়েছিল এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে অল্প অল্প পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। অ্যাকাউন্টগুলোতে জো বাইডেন ও ডোনাল্ট ট্রাম্পের সমর্থন হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল। এ কার্যক্রমে কোনো দলের সমর্থককে ছাড় দেওয়া হয়নি। অভিযানের এ পর্যায়ে অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট মাত্র সক্রিয় হয়েছিল।’
বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে চীন সরকারের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা ফেকবুক এখনও জানায়নি। তবে অ্যাকাউন্টগুলো চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ফেসবুক উল্লেখ করেছে, অ্যাকাউন্টগুলোতে দক্ষিণ চীন সম্পর্কেও অনেক পোস্ট ছিল।
গ্রাফিকা বলছে, অ্যাকাউন্টগুলো বেজিংয়ের পক্ষে কাজ করেছে। গ্লিশার জোড় দিয়ে বলছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তবে সামান্য আলোচনা করা হয়েছে ২০২০ মার্কিন নির্বাচন নিয়ে।
যাইহোক, মঙ্গলবার ফেসবুকের ঘোষণার পর বিষয়টি সকলের নজরে আসে। সংস্থাটি মাসে একবার এমন তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করে। আগামী দুই বা তিন সপ্তাহে আর এমন সংবাদ প্রকাশ করা হবে না।
গ্লিসার মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সংস্থাটির অনুসন্ধানের প্রকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমরা ভেবেছি, আমরা যা দেখেছি সে বিষয়ে লোকেরা সচেতন হোক।
এ অভিযানে বাইডেন হ্যারিস নামের একটি গ্রুপ অন্তর্ভূক্তির তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রুপটির সদস্যা সংখ্যা ১৭০০।
গ্রাফিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বাইডেন বা ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য কাউকে উত্সাহিত করা হয়নি।
সূত্র :সিএনএন