বৈরী আবহাওয়া ও ইলিশসংকটে তিন দিন ধরে ফিশিং বোট বহর উপকূলের বিভিন্ন স্থানে নোঙর করে আছে। ক্রমাগত লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলে-মত্স্যজীবীরা। জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতির শরণখোলা শাখা সভাপতি আবুল হোসেন জানান, এক দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্য দিকে সাগরে ইলিশসংকটে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। তিন দিন যাবত্ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফিশিং বোটগুলো উপকূলের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। জেলেরা সাগরে একবার জাল ফেলে চার/পাঁচটি করে ইলিশ পায়। ৮/১০ দিন জাল ফেলে একেকটি বোট ২০/২৫ কেজির বেশি মাছ পায় না। প্রতি জেলে মহাজন এ পর্যন্ত ১০/১৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছেন। ঋণ পরিশোধের চিন্তায় জেলে মহাজনরা দিশেহারা বলে আবুল হোসেন জানান। বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে সাগর ছেড়ে ফিশিং বোটগুলো ঘাটে রয়েছে। সাগরে ইলিশ না পাওয়ায় জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে রয়েছেন। ফিশিং বোট মালিকরা ব্যাংক ও এনজিওদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও বোট প্রস্তুত করে সাগরে মাছ ধরতে পাঠিয়ে ইলিশ পাচ্ছে না। এনজিওদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেক জেলে-মহাজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তিনি জানান। দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বিশিষ্ট মত্স্য ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সাগরে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে জেলেরা হতাশ। পূর্বে মহিপুর উপকূল থেকে পশ্চিমে রায়মঙ্গল উপকূল পর্যন্ত সাগরে ইলিশ তেমন নেই। চার/পাঁচটির বেশি ইলিশ পায় না জেলেরা। তিনি ইলিশ মৌসুমের এ পর্যন্ত ৬ লক্ষাধিক টাকা লোকসান দিয়েছেন বলে জানান।