বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়াল সৌদি সরকার

সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসা বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা এবং আকামার মেয়াদ বাড়ছে। আগামী রবিবার থেকেই এই ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর আকামার মেয়াদ চলতি আরবি সফর মাসের বাকি ২৪ দিন এমনিতেই বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে পরে আরো বাড়ানো হবে। এছাড়া সৌদি সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও সব সৌদি এয়ারলাইনসকে এদেশে অবতরণ এবং বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে নেওয়ার অনুমতিও দিয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ইত্তেফাককে এ কথা জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী বিকালে (বুধবার) টেলিফোন করে সৌদি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সহসাই সৌদি সরকার রয়েল ডিক্রি জারি করে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক বেশি নিবিড় হয়েছে। যে কারণে সৌদি সরকার বাংলাদেশের প্রস্তাবে সহজেই সাড়া দিয়েছে। 

সৌদি আরব থেকে ছুটি কাটাতে আসা বাংলাদেশি কর্মীদের আকামার সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তাই সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানো এবং বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করার দাবিতে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকায় বিক্ষোভ করেন প্রবাসী কর্মীরা। গতকাল তারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এবং কাওরান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন। তারা জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি আরবে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে না পারলে চাকরি হারাবেন। বিক্ষোভরত কর্মীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ সময় কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সব ধরনের বিমান যেন ঢাকায় আসে এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের যাওয়ার সুযোগ দেয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে সৌদি আরবকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি প্রবাসী কর্মীদের আকামার মেয়াদ ছুটিতে দেশে আসার সময় থেকে আরো তিন মাস বাড়ানোর জন্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছুটিতে এসে আটকা পড়া প্রবাসী কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইমরান আহমদ বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশির প্রত্যেককেই বাংলাদেশের দূত হিসেবে মনে করা হয়। সেজন্যই তাদের এমন কিছু করা উচিত নয়, যা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে।

সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, এ ধরনের বিক্ষোভ বা আন্দোলন করলে সৌদি আরবের কাছে ভুল বার্তা যাবে। আমরা সৌদি সরকারের কাছে মঙ্গলবার অনুরোধ করেছি, তিন মাস তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এবং যাতে এই সুবিধা বিনা খরচে পায়। প্রবাসীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে অত্যন্ত কড়া। যদি আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ বা জটলা দেখানো হয়, তবে এটি তারা বরদাস্ত করে না। এরপর রাতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি সরকার বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে সৌদি দূতাবাস খুলবে। এছাড়া আকামার মেয়াদ চলতি আরবি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। সৌদি আরবে গমনের জন্য সৌদি এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমান টিকিট ইস্যু করবে।

এমতাবস্থায়, সৌদি দূতাবাসের ভিসা প্রার্থীগণ এবং সৌদি এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমানে টিকিট করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিগণকে বিশৃঙ্খলা না করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব কাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ভিসা সংগ্রহের সময় ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে অথবা টিকিট সংগ্রহের সময় সৌদি এয়ারলাইন্স বা বাংলাদেশ বিমানের সম্মুখে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। কোনো ধরনের হট্টগোল না করে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে টিকিট ক্রয় ও ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের তৃতীয়পক্ষের প্ররোচনায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।