পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও সিন্ডিকেট বাজারে পেঁয়াজ ছাড়ছে না

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সুযোগে দেশে পেঁয়াজের মোকাম ও উত্পাদনের জেলাগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মজুতদারদের একটি বড় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম না কমতেই আবার বাড়াতে তত্পর হয়ে উঠেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।  সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও গতকাল তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। গতকাল রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়, যা এক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও পেঁয়াজের মোকাম ও উত্পাদনের জেলাগুলোতে প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুধু দেশি পেঁয়াজের মজুতই রয়েছে প্রায় ৬ লাখ টন। সেই সঙ্গে রয়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজের মজুত। কিন্তু সিন্ডিকেট বেশি মুনাফার আশায় মজুতকৃত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে না। দেশে পেঁয়াজের একটি বড় মোকাম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। এই বন্দরে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা অভিযোগ করেন, বেশি দাম না দিলে বন্দরের মোকামের ব্যবসায়ীরা বলছেন পেঁয়াজ নেই। আবার দাম বেশি দিলে পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে।

একই অবস্থা পেঁয়াজ উত্পাদনের জেলাগুলোতেও। দেশে যে চারটি জেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উত্পাদন হয়, তার মধ্যে রয়েছে পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ। কিন্তু এই জেলাগুলোর পাইকারি হাটবাজারগুলোতে হঠাত্ করেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। অথচ ভারত রপ্তানি বন্ধের আগে এই জেলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল।

পেঁয়াজ আমদানিকারক মোরশেদুর রহমান বলেন, হঠাত্ করেই পাবনা ও ফরিদপুরের পাইকারি হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। বেশি দামের আশায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না বলে তিনি মনে করেন। অথচ বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জাহিদুল ইসলাম জানান, বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলামসহ কয়েক জন জানান, গত শনিবার ভারতীয় ১১টি ট্রাকে ২৪৬ মেট্রিকটন পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়েছে, যার অধিকাংশই ভ্যাপসা গরমে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বাছাই করে কিছু ভালো পেঁয়াজ বের করা হয়েছে। সেসব পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। দাম স্বাভাবিকই আছে বলে তিনি দাবি করেন। পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, ১৯ সেপ্টেম্বরের পর ভারত থেকে এ পর্যন্ত পেঁয়াজবোঝাই আর কোনো ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়েও ১৯ সেপ্টম্বরের পর আর কোনো পেঁয়াজের ট্রাক দেশে ঢোকেনি।

উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টম্বর ভারত রপ্তানি বন্ধের আগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ২৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের এলসি করা মাত্র কয়েকশ টন পেঁয়াজ দেওয়ার পর আর কোনো পেঁয়াজ দেয়নি। এমনকি সীমান্তে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজভর্তি ট্রাকগুলো তারা ফিরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ পেঁয়াজের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। ইতিমধ্যে পেঁয়াজের মোকাম ও উত্পাদনের জেলাগুলোতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেই সঙ্গে বাজার মনিটরিং করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিম। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সস্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও এখন মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসছে। চীন, মিশর, তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডস থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া টিসিবি খোলাবাজারে ৩০ টাকা এবং অনলাইনে ৩৬ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। পেঁয়াজের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে যাবে।