বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনকে মাইলফলক হিসেবে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিএনপি এই নির্বাচন এসিড টেস্ট হিসেবে বিবেচনা করছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটে এখানে আবারও নৌকার বিজয় অর্জন হবে।’
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবং পরে আওয়ামী লীগ নেতা পৃথকভাবে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, ‘এখন আর ঈশ্বরদীর বিএনপিতে বিভক্তি নেই।’
বিএনপির এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ যদি সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে এবং সেই ভোটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেই প্রমাণ হবে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন হয়েছে।’
এসময় লিখিত বক্তব্যে ঈশ্বরদী-আটঘোরিয়া (পাবনা-৪) আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণার মাইক ভাংচুর, বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলা ও ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকির অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমূল বিশ্বাস এ সময় বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনে এখানে বিএনপি সবসময় বিজয়ী হয়েছে। সকল রাগ, অভিমান ভুলে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন একতাবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে।’
বক্তব্য রাখেন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার, পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। বিএনপির সাবেক এমপি সেলিম রেজা হাবিব, একেএম আনোয়ারুল ইসলাম, আব্দুল বারী সরদার, জেলা বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মাস্টার, ডলি খান, ললিতা গুলশান মিতাসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
পাবনা-৪ আসনের দীর্ঘদিনের ‘সিরাজ-হাবিব দ্বন্দ্ব’ মিটমাট করে সাবেক এমপি সিরাজ সরদার ও এবারের উপনির্বাচনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব একসাথে বিএনপির রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
আরও পড়ুন:কিশোরীকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ের ৩ মাসের মাথায় হত্যা, ঘাতক স্বামী আটক
এদিকে বিকেলে নির্বাচনের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম শ্লোগান তুলেছিলেন-আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা অর্জন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
ঈশ্বরদীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নৌকার বিজয় অর্জন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেনি।’ তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ উত্তরবঙ্গের বাংলা ভাইয়ের প্রতীক, সন্ত্রাসের প্রতীক, পূর্ণিমা ধর্ষণের প্রতীক, সারের জন্য কৃষক হত্যার প্রতীক, আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ খুনের প্রতীক। বিএনপির সন্ত্রাস, দুঃশাসন ও দুবৃত্তায়নের কারণে সাধারণ মানুষ ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’
এদিকে বিএনপির প্রচারণার মাইক ভাংচুর ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, এধরণের অভিযোগ পাওয়ারা তদন্ত করতে গিয়ে মাইক ভাংচুরের সত্যতা এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/এএএম